স্কুলে ফিরবে পাশ-ফেল প্রথা? বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়া আনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশ্ন করা হলে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মানব। এনইপি আছে। আমার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। আমার সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষিত মানুষ। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই শিক্ষা দফতরে রয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে পাশ-ফেল প্রথা? এই বিষয়ে এবার বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি জানিয়েছেন, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিলেবাস কমিটির সুপারিশ মেনে চলবে রাজ্য সরকার। তবে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে মনে করেন স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা দরকার। একইসঙ্গে স্কুলে ব্রতচারী, এনএসএস ও এনসিসির মতো কার্যক্রমও ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়া আনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশ্ন করা হলে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মানব। এনইপি আছে। আমার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। আমার সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষিত মানুষ। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই শিক্ষা দফতরে রয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন।”

স্কুলে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি স্কুলে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার পক্ষে। পাশাপাশি, তিনি আসন্ন শিক্ষাবর্ষে অনেক ধরনের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা দপ্তরে এখন শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনরা আছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবেন। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, স্কুলে পাশ–ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা দরকার।’

স্কুলে পাশ ফেল-এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মতামত জানাতে গিয়ে স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এগুলো ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চার করা, এছাড়া ব্রতচারী, এনএসএস, প্রত্যেকটা স্কুলে এনসিসি. এগুলো ফিরিয়ে আনা দরকার।” তাঁর সংযোজন, ‘স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাশ–ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস আধুনিক ভাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চার করা দরকার।’ আর এই সব পরিবর্তন আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ধীরে ধীরে কার্যকর করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

এছাড়া, পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য স্কুল স্তরে শিক্ষার বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেন, “বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তর থেকে তবলা-হারমোনিয়াম-গিটার-সেতার থেকে শুরু করে মৃদঙ্গ-খঞ্জনি…এই সাংস্কৃতিক প্রতিভাও প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করানোর জন্য় প্রত্যেক বছর তিনদিন করে অন্তত বিতর্ক-কুইজ-তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এগুলো কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে থাকা দরকার। তাহলেই এই আরশোলা-ছারপোকা, দিমাগি নকশাল, টুকরে টুকরে গ্যাং… এই সব যে করোনা ভাইরাসের মতো চেষ্টা করছে, এদের তাহলে স্প্রে করার জন্য হিট লাগত না। এটা দরকার আছে।”