চোরবাগান বিপর্যয়ে এবার শিল্পীকে তলব করল লালবাজার, গোলমাল সিসিটিভিতেও! অর্ধেক ফুটেজই পায়নি পুলিশ
চোরবাগান পদপিষ্টে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে আগামী ২৮ শে অক্টোবরের মধ্যে লালবাজারে তলব করা হল। পুজো চলাকালীন দায়িত্বরত পুলিশকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্তে এবার গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। সপ্তমীর সন্ধ্যায় পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের ।

এক লহমায় উৎসব রূপ নিয়েছে বিষাদের। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মণ্ডপের প্রধান প্রতিমা ও প্যান্ডেল শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে আগামী বুধবারের মধ্যে লালবাজারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চোরবাগান বিপর্যয় কাণ্ডে শিল্পী সুশান্ত পালকে তলব করল লালবাজার। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজেও বড়সড় গলদ পেয়েছে পুলিশ, গায়েব অর্ধেকেরও বেশি রেকর্ড। গোটা ঘটনার তদন্তে পুলিশ। চোরবাগানের দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর তদন্তে এবার থিমশিল্পীকে তলব করল লালবাজার। সূত্রের খবর, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর দায়িত্বে থাকা শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তাকে বুধবারের মধ্যে লালবাজারে হাজিরা দিতে হবে। জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের নকশা কীভাবে হয়েছিল, তাতে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, এসব জানতে থিমশিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ৩ জনকেও তলব করেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার মুহূর্তে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চায় তদন্তকারী দল।

সপ্তমীর সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে কীভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ বিপর্যয় ? ১৯ জনের মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, কোথায় ছিল গাফিলতি? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তে নেমে একের পর এক বিষয় খতিয়ে দেখছে লালবাজার। আর সেই তদন্তেই সামনে এল সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মণ্ডপ ও আশপাশে ৩২টি ক্যামেরা থাকার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার মধ্যে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ পায়নি পুলিশ । পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে মণ্ডপশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল এবং ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মোট ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ক্যামেরার ফুটেজ হাতে আসেনি। কেন ওই ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা বাকি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ইতিমধ্যে পাওয়া ছবিগুলিও খতিয়ে দেখছেন। বিপর্যয়ের আগে ও পরে মণ্ডপের সামনে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, ভিড় কীভাবে বাড়ল এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথে কী ঘটেছিল, ফুটেজ থেকে তার সূত্র পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, মণ্ডপ তৈরির নকশা ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব করেছে লালবাজার। বুধবারের মধ্যে তাকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কী পরিকল্পনায় মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা কেমন ছিল, সেই সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন তিনি।

ঘটনার দিন চোরবাগান মণ্ডপের সামনে এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথে যারা পুলিশি দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই দিনের ডিউটিতে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে। তাদের কোথায় মোতায়েন করা হয়েছিল, কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং বিপর্যয়ের সময় তারা কী পদক্ষেপ করেছিলেন, তা জানতে বয়ান রেকর্ড করা হবে। এছাড়া, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিন জনকেও সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে ডাকা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত ২ ঘোষক, যারা ঘটনার আগে মণ্ডপ ভেঙে যাবে বলে দর্শনার্থীদের বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। বিপর্যয়ের নেপথ্যে তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

চোরবাগানকাণ্ডে ১৯ জনের মৃত্যুর পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতদের পরিজনেরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং মৃত ও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখবে ওই দল।