সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 15
মোট ভিজিটর 521

বাংলা ছেড়ে অসমে পাড়ি দিল বক্সার বাঘিনি ! সীমানা মানছে না বিহারের ডোরাকাটা সুন্দরী

0
aaaaaaaaaaaaa

২০১৪ সাল থেকে বাঘের দেখা না মেলা বক্সায় ফের বাঘ ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্যের বন দফতর। সেই প্রকল্পেরই সূচনা হিসেবে বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে এনে গত ২ অক্টোবর একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। কিন্তু এক মাস না কাটতেই সেই বাঘিনী পালিয়েছে। এই বাঘিনী আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের রায়ডাক নদী পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে এনে গত ২ অক্টোবর একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এক মাস না কাটতেই সেই বাঘিনী পালিয়েছে। এই বাঘিনী আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের রায়ডাক নদী পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বক্সার বাঘিনি রাজ্য ছেড়ে আচমকা পা রাখল পড়শি অসমের কোকরাঝাড়ে, রায়মোনা টাইগার রিজ়ার্ভের কাছে। পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এনক্লোজ়ার থেকে মুক্ত জঙ্গলে পা রাখার পরে গত তিন সপ্তাহে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পঁচিশ মাইল টাওয়ার থেকে ক্রমশই পূর্বদিকে এগিয়েছে বছর তিনেকের বাঘিনি। তাতে সে রেকি করেছে প্রায় ৩৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।

শেষে জয়ন্তী পার করে সে পৌঁছে গিয়েছে চুনিয়া হয়ে আরও পূর্বদিকে, সঙ্কোশ নদীর পাড়ে। বাংলা–অসম সীমানায় ওই নদীর পূর্বপাড়েই রয়েছে মানস টাইগার রিজার্ভের পশ্চিম দিকের কোর ও বাফার জ়োন লাগোয়া ৪২২ বর্গ কিমি বিস্তৃত রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ। ২০২১–এ টাইগার রিজ়ার্ভ তকমা পাওয়ার সময়ে রায়মোনায় ছিল একটি বাঘ, আপাতত সেই জঙ্গলে বাঘ–বাঘিনি মিলিয়ে অন্তত ৬টি ডোরাকাটার রাজত্ব। যদিও বাঘিনির অসমে পৌঁছনোর খবর নিয়ে এখনও সরাসরি মুখ খোলেনি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

অসম বন দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুক্রবার রাতেই তাদের কাছে বার্তা আসে, বিহার থেকে বক্সায় এনে ছাড়া বাঘিনিটি সঙ্কোশের আশপাশে রয়েছে। যে কোনও সময়ে সে নদী পার করে রায়মোনা জঙ্গল এলাকায় চলে যেতে পারে। শনিবার কোকরাঝাড়ের কচুগাঁও বন বিভাগের ডিএফও মুস্তাফা আলি আহমেদ বলেন, ‘বক্সার বাঘিনির মুভমেন্ট রায়মোনার জঙ্গলের দিকে — এই খবর আমরা পেয়েছি। তবে জঙ্গলে তার উপস্থিতির প্রামাণ্য ছবি এখনও হাতে আসেনি।’

পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, “বাঘিনি জানে না কোনটা অসম কোনটা বেঙ্গল আর কোনটা ভুটান। ওদের যখন ছাড়া হয়, তখন আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখার চেষ্টা করে। তারপর স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।” এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বাঘের এই ঘুরে বেড়িয়ে জঙ্গল দেখা পুরোটাই স্বাভাবিক বিষয় বলে জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, “একই ভাবে বক্সা, সঙ্কোস, অসম পুরোটা একটা করিডর। সেই কারণেই এখান থেকে বাঘ এসে অন্য জায়গায় চলে যেত। ফলে আমরা যেখানে বাঘকে ছাড়ি সেখান থেকে তো অসমের দূরত্ব আর বেশি নয়। তাই এটা একটি স্বাভাবিক বিষয়।”

বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে যায়নি, এলাকা চিনেই অসমের বন থেকে ফিরবে, দাবি বনমন্ত্রী মনোজের। বক্সায় আরও বাঘ ছাড়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে তার আগে বাঘিনিটিকে জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় দিতে চায় বন দফতর। আপাতত আগামী তিন মাস তার গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হবে। বাঘিনিটি স্বাভাবিক ভাবে নিজের এলাকা বুঝে নিয়ে বক্সায় ফিরে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর আধিকারিকদের।

বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমের রাইমনা জঙ্গলে চলে যাওয়া বাঘিনিকে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুখ খুললেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তাঁর দাবি, বাঘিনি বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছে, এমনটা বলা ঠিক নয়। নিজের এলাকা চিনে নিতে আপাতত রাইমনা জঙ্গলে গিয়েছে সে। এলাকা বুঝে নেওয়ার পর বাঘিনি আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে বলেই আশাবাদী বনমন্ত্রী। তাই এখনই তার গতিবিধিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না বন দফতর। বরং বাঘিনিকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও তিন মাস সময় দিতে চায় তারা।

বক্সায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিন বছর বয়সি একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে তাকে ছাড়া হয়। তার পর থেকেই বন দফতরের আধিকারিকেরা বাঘিনিটির গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। সম্প্রতি তার গতিবিধিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পরে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছে বাঘিনিটি। এর পরেই তার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে বন দফতরের বাঘ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ কয়েক জন আধিকারিককেও অসমে পাঠানো হয়েছে।

বাঘিনিটির গতিবিধি প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মনোজ বলেন, “বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে চলে গিয়েছে, এ কথা সঠিক নয়। আমরা বনকে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে ভাগ করেছি, বাঘেরা করেনি। তাই জঙ্গলের স্বাভাবিক গতিপথ ধরেই বক্সা থেকে বাঘিনিটি রাইমোনা জঙ্গলে গিয়েছে। তাই সে বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। আমাদের ধারণা, বাঘিনিটি নিজের এলাকা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তাকে মাস তিনেক সময় দিতেই হবে। সে যখনই নিজের এলাকা বুঝে নেবে, তখনই আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে।” বাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে চলে গিয়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা-ও মানতে নারাজ বনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে গিয়েছে, যাঁরা এমনটা বলছেন, তাঁদের ধারণা সঠিক বলে মনে হয় না। রাইমোনা জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বেশি হতে পারে, কিন্তু সেটাই বাঘিনিটির এলাকা বদলের একমাত্র কারণ হতে পারে না।”

বনমন্ত্রীর বক্তব্য, বক্সায় আরও বাঘ ছাড়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে তার আগে বাঘিনিটিকে জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় দিতে চায় বন দফতর। আপাতত আগামী তিন মাস তার গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হবে। বাঘিনিটি স্বাভাবিক ভাবে নিজের এলাকা বুঝে নিয়ে বক্সায় ফিরে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর বন আধিকারিকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed