সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 15
মোট ভিজিটর 521

বুধবারই আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! কলকাতাসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা,বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া

0
F

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বুধবার বেলার দিকে এটির ল্যান্ডফল শুরু হবে।বুধবার আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়, মঙ্গলবার থেকেই বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া!

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হতে চলেছে বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবারের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পূর্ব উপকূল অভিমুখে এগোনোর পথে এটি উত্তরোত্তর শক্তি সঞ্চয় করবে এবং শেষ পর্যন্ত অতি তীব্র রূপ ধারণ করবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী বুধবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপতলার মধ্যবর্তী কোনও এক স্থান দিয়ে তীব্র গতিতে আছড়ে পড়তে পারে ‘অর্ণব’। স্থলভাগে ঢোকার সময়ে অন্ধ্র উপকূলে ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। এই ঘূর্ণিঝড়ের মূল জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং অন্ধ্র-সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে চরম দুর্যোগ ও তছনছ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি বা প্রত্যক্ষ আঘাত বাংলায় না পড়লেও, রাজ্যজুড়ে এর ব্যাপক পরোক্ষ প্রভাব দেখা দেবে। উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ— সর্বত্রই বৃষ্টি ও দুর্যোগের চিত্র ফুটে উঠবে। সোমবার পর্যন্ত বাংলায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকলেও মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। এর প্রভাবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাংলা জুড়ে আবহাওয়া মারাত্মক রূপ নিতে চলেছে। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়ে যাবে। এ দিন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকবে।

বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হাত ধরে বর্ষণ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঝড়ের কারণে দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির লাল সংকেত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিমেও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুর্যোগের কেন্দ্রবিন্দু পুরোপুরি সরে যাবে পাহাড়ি অঞ্চলে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং সংলগ্ন সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা পাহাড়ি এলাকায় ধ্বস নামার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পুরো সময় জুড়েই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি সমস্ত জেলাতেই একটানা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আরও জানাচ্ছে, বুধবার বেলার দিকে এটির ল্যান্ডফল শুরু হবে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার মধ্যে হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল। উপগ্রহ চিত্রে যেটা দেখা যাচ্ছে, সেখানে এটার ল্যান্ডফলের পদ্ধতিটা দীর্ঘ হতে পারে। স্থলভাগে ঢোকার পর সেটি শক্তি হারাতে পারে। যখন এটি স্থলভাগে ঢুকবে, তখন এটির গতি ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ (গাস্টিং উইন্ড স্পিড) ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ডানদিকে এগোতে পারে ঘূর্ণিঝড় এবং যতক্ষণ না শক্তি হারাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

বিশাখাপত্তনমে মঙ্গলবার ও বুধবার ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। ২৭ ও ২৮ অক্টোবর উপকূলীয় অন্ধ্রে চরম ভারী বর্ষণ হতে পারে (২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি)। পুরীতে মঙ্গলবার ও বুধবার ‘কমলা সতর্কতা’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোপালপুর সংলগ্ন গঞ্জাম জেলায় মঙ্গলবারে কমলা এবং বুধবারে লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। ২৮ অক্টোবর দক্ষিণ ওড়িশায় চরম ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed