‘অর্ণব’-এর রুদ্ররূপ! দিঘা-মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র, কড়া নিরাপত্তা-মাইকিং,ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস একাধিক জেলায়, দমদমে বাতিল একাধিক উড়ান
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় সতর্ক পূর্ব মেদিনীপুর-সহ বাংলার উপকূলবর্তী এলাকাগুলি। দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর ও শঙ্করপুরে বৃষ্টি না হলেও সমুদ্রে বড় ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সমস্ত সমুদ্র সৈকতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাতভর চলেছে পুলিশের মাইকিং ও টহলদারি।

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে সব জেলাতেই কমবেশি ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। দিঘা, মন্দারমণিতে জলোচ্ছ্বাস! ঘূর্ণিঝড়ের ঝাপটায় দক্ষিণবঙ্গের ৪ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দমদমে বাতিল একাধিক উড়ান।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া চলছে। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশায় অর্ণবের প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টি চলছে। তবে পূর্বাভাস থাকলেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের তেমন প্রভাব পড়েনি। আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গে হাওয়া বদলের সম্ভাবনা কম। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গেও ঝ়ড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বুধবার উত্তরবঙ্গের জন্য সতর্কতা জারি করেনি হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে আসা ইন্ডিগোর তিনটি বিমান বাতিল করা হয়েছে। অন্য দিকে, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ওড়া দু’টি ইন্ডিগো বিমানও বাতিল।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শুক্রবার থেকে হাওয়া বদলের সম্ভাবনা। তবে দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টের পর সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তার পর আর ওই জেলায় সে ভাবে বৃষ্টি হয়নি। তবে বুধবার ভোর থেকে কাঁথি, রামনগর-সহ কয়েকটি জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে দেখা গিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। তাজপুর, শঙ্করপুর সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় লাগাতার মাইকিং করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সমুদ্রে স্নান করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও ঝ়ড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বুধবার উত্তরের কোনও জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।