সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 19
মোট ভিজিটর 525

অর্ণবের ফিকে প্রভাবের মধ্যে ফের নতুন ঝড়ঝঞ্ঝা, নতুন নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে সাগরে! এগোতে পারে কোন দিকে? দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি আর কত দিন

0
F

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ দানা বাঁধছে। তার প্রভাব পড়তে পারে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আপাতত কোনও সতর্কতা না থাকলেও আবহবিদেরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। উত্তরবঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে শুক্রবার।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে বাংলায় খুব বেশি প্রভাব না পড়লেও ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর অবশিষ্টাংশ ছত্তিশগড়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত। যার জেরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় প্রবল প্রভাব দেখাচ্ছে৷ এদিকে এক সাইক্লোনের আশঙ্কা কাটতে না কাটতেই ফের দুর্যোগের অশনি৷ বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এই সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট করেনি মৌসম ভবন।

এক দুর্যোগের ধাক্কা সামলানোর আগেই আর এক নিম্নচাপের চোখরাঙানি! ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে স্থলভাগের দিকে সরে গেলেও বাংলার আকাশ থেকে বৃষ্টির মেঘ এখনও কাটেনি।তার মধ্যেই দক্ষিণ আন্দামান সাগরে তৈরি হয়েছে নতুন একটি নিম্নচাপ।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে—এমনটাই পূর্বাভাস। তবে নতুন এই ওয়েদার সিস্টেমটি কোন পথে এগোবে, কোথায় প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ফের আবহবিদদের কড়া নজর বঙ্গোপসাগরের গতি প্রকৃতিতে।

আবহবিদদের বক্তব্য, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপরে থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত থেকেই এই নিম্নচাপের জন্ম। সমুদ্রে অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে সেটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা—অর্থাৎ রবিবার পর্যন্ত তার গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। প্রাথমিক পূর্বাভাসে ২ নভেম্বরের আগে ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পৌঁছনোর সম্ভাবনা কম বলেই জানানো হয়েছে। তার আগে ২ নভেম্বর রাত কিংবা ৩ নভেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে।

বাংলার ক্ষেত্রে এখনই নতুন নিম্নচাপের প্রভাব নিশ্চিত করে জানানো যাচ্ছে না। তবে অর্ণবের প্রভাবে রাজ্যে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা–সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর পিছনে একাধিক আবহাওয়াগত কারণ রয়েছে। অতি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে অর্ণব উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে ছত্তিসগড়ের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে বাংলায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে থাকা পরপর পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাব। সমুদ্রের আর্দ্রতা ও পশ্চিমি ঝঞ্ঝার এই যুগল প্রভাবেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সাইক্লোন অর্ণবের যে অবশিষ্টাংশ নিম্নচাপ হিসেবে ছত্তীসগঢ় এবং ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল, তা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে এগোতে আরও শক্তি হারিয়েছে। বর্তমানে তা সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় শক্তি খুইয়ে সাধারণ নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হবে অর্ণবের অবশিষ্টাংশ। তা থাকবে ছত্তীসগঢ়ের উত্তর ভাগে। তবে দক্ষিণ আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলের উপর নতুন করে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। আবহবিদেরা সে দিকেও নজর রেখেছেন। ওই নিম্নচাপ অঞ্চল ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর পৌঁছোবে। সেখানে ঘনীভূত হবে নিম্নচাপ। পরবর্তী দু’দিনে আরও উত্তর দিকে সরতে সরতে নিম্নচাপটি আবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছোবে। তার প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আপাতত কিছু দিন বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার আবহাওয়া এমন থাকতে পারে। তবে কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই। আলাদা করে সতর্কতাও জারি করা হয়নি। দক্ষিণবঙ্গের পাঁচটি জেলার জন্য শুক্রবার সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে। সমুদ্রের উপর থেকে নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব আপাতত কেটে গিয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা নেই।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। শুক্রবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে অতিভারী বর্ষণের (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। এ ছাড়া, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হবে। কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে চলতে পারে শনিবার পর্যন্ত।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরের জেলাগুলিতে দিনের তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি কমে যাবে। তার পরের দু’দিনে ধীরে ধীরে আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি পারদ চড়তে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। পারদপতনের পূর্বাভাস অবশ্য দক্ষিণবঙ্গে নেই। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণের জেলাগুলিতে দিনের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রায় কোনও পরিবর্তন হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed