সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 17
মোট ভিজিটর 523

“এনকাউন্টার আমি সমর্থন করি, যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখে, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই”, গাইঘাটা কাণ্ডের পর দাবি অভয়ার মায়ের

0
F

‘আমি এনকাউন্টারকে সমর্থন করি, এদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই’, বারুইপুর-গাইঘাটায় জমা-খরচের পর প্রতিক্রিয়া অভয়ার মায়ের । পরপর এই জোড়া এনকাউন্টারের আবহে জমা-খরচের হিসেব মেলাতে পারছেন না পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি করের নির্যাতিতার মা জানালেন, তার কন্যার অপরাধীদেরও চরম পরিণতি হওয়া উচিত এনকাউন্টারেই।

সমাজে দুষ্কৃতীরাজ নির্মূল করে সুশাসন ও নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ট্যাগলাইন তৈরি করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । ট্যাগলাইন হল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি যে শুধু কথার কথা নয়, তা একের পর এক পদক্ষেপে স্পষ্ট। রাজ্যে নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসামাত্রই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতারির পর বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা কিংবা পালানোর চেষ্টা করলেই সোজা এনকাউন্টার।

মাস খানেক আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের পরিণতি হয়েছিল এমনটাই। আর মঙ্গলবার ভোরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখল গাইঘাটা। পরপর এই জোড়া এনকাউন্টারকে সমর্থন করলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি করের নির্যাতিতার মা জানালেন, যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য মনে করে, তাদের এমন চরম পরিণতিই হওয়া উচিত।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক। সেই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় মামলাটি পুনরায় চালু করা হয় এবং বর্তমানে সিবিআই ঘটনার পুনর্তদন্ত করছে। মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজনীতিতে পা রেখে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক হয়েছেন প্রয়াত চিকিৎসকের মা। এ দিন গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এনকাউন্টারের পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার দ্রুত বিচারের পথ সুগম করছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখার কোনও যুক্তি নেই। এনকাউন্টারই এদের জন্য সঠিক শাস্তি। এভাবে কঠোর পদক্ষেপ করলে তবেই অপরাধীরা ভয় পাবে।”

গাইঘাটায় নাবালিকাকে ‘ধর্ষণ’-খুন, এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় ধৃতের। এই ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরজিকরে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় নিহত মহিলা চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি এনকাউন্টারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্য মদ বিক্রি বন্ধ হোক বলেও দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনা সরকারের ভূমিকায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ কামদুনির নির্যাতিতার ভাই।

অভয়ার মা বলেন, যে ঘটনাটা ঘটেছে, মেয়েটাকে খুন করা হয়েছে। আমার মেয়ের মতোই ঘটনা। এনকাউন্টার হয়েছে। ওর মার হয়তো কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ওর মা ছেলেটাকে ভাল মানুষ তৈরি করতে পারেনি। যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখে, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এনকাউন্টার আমি সমর্থন করি।

অভয়ার মা তথা বিধায়িকা রত্না দেবনাথ বলেন যারা এই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা একটু হলেও ভয় পাবে। তবে তার আগে হচ্ছে মদ। মাতাল অবস্থায় থেকে এই ঘটনাগুলি ঘটাচ্ছে। তাই নেশাজাতীয় দ্রব্য একদম তুলে দেওয়া উচিত, আমাদের রাজ্য থেকে। তাহলে এই ঘটনা আরও কমবে।

অন্যদিকে, কামদুনির নির্যাতিতার ভাই বলেছেন, আজকে আমি দেখলাম, গাইঘাটাতে যেভাবে এনকাউন্টার করে মারা হয়েছে, আমরা এইরকমই তো চাই। এর আগেও আমরা দেখেছিলাম, বারুইপুরে কীভাবে এনকাউন্টার করে মারা হয়েছে। আজকেও দেখলাম গাইঘাটাতে কীভাবে এনকাউন্টার করে মারা হয়েছে। আমরা তো এইরকমই তো চাই, এই সরকারকেই তো চাই। এটাই হল ঠিকঠাক ওষুধ। তাহলে ধর্ষণটা এবারে বন্ধ হবে। আর আমাদের (কামদুনি মামলা) যে দুটো আসামী এখনও পর্যন্ত জেলের ভিতরে আছে, ওদেরকেও এনকাউন্টার করে মারা হোক। অভিযুক্ত আরও যে চারজন বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছে, তাদেরকেও এনকাউন্টার করে মারা হোক। ধর্ষণ এবং খুন , এর ওষুধ একটাই এনকাউন্টার। তাহলে ধর্ষণ এবং খুন হওয়া বন্ধ হবে।’

বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা। ৩ মাসের ব্যবধানে রাজ্যে ফের এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। এবার পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল গাইঘাটার বাসিন্দা নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ধৃত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণের পর থানায় ফেরার সময় SI-এর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পুলিশের দিকেই গুলি ছুড়েছিল অভিযুক্ত। তারপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed