ক্রেনের বদলে ট্রলি, একাদশীতেও চলবে প্রতিমা নিরঞ্জন, কড়া নিরাপত্তা পুলিশের
বুধবার থেকে শহর তথা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব । এই বিসর্জন পর্ব চলবে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এই দিনগুলিতে যাতে কোথাও কোনও বিপর্যয় না হয়, সেই কারণে বিসর্জনের আগে গতকাল বাবুঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলেও রয়েছে পুলিশ পিকেট। বিসর্জনের ঘাটে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ৩০০ জন মোটবাহককেও।

চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রতিমা বিসর্জনে নিরাপত্তা জোরদার করল প্রশাসন। বুধবার বাবুঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ ও এনডিআরএফের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি জলপথে ঘাটগুলিও পরিদর্শন করেন তিনি। কলকাতার ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।

শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলেও রয়েছে পুলিশ পিকেট। বিসর্জনের নিরাপত্তা তদারকিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে। তাঁদের মধ্যে কলকাতায় ১২ জন এবং হাওড়া, বারাকপুর ও চন্দননগরে দু’জন করে থাকছেন। দুপুরের পর থেকে ঘাটে ঘাটে বিসর্জন শুরু হয়। এবারে প্রতিমা নিরাঞ্জনে আর ক্রেন রাখা হয়নি। সেই জায়গা অতিরিক্ত ট্রলি ও কুলি রাখা হয়েছে ঘাটগুলিতে। একাদশীতেও চলবে নিরঞ্জন। দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫টি লাইফ সেভিং নৌকা চালানো হবে।

নিমতলায় ন’টি ও বাবুঘাটে ১২টি ট্রলি রাখা হয়েছে। থাকছেন ৩০০ জন কুলি অর্থাৎ মোটবাহককেও। দ্রুত কাঠামো সরানো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলিতে রয়েছে এনডিআরএফের দল, জলপথেও চলবে নজরদারি। ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে ঘাটগুলিতে বিশেষ পুলিশি তৎপরতা থাকবে। পুরসভার অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গঙ্গায় ৬০৪টি প্রতিমার নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিমা নিরঞ্জনে সাবধানতা অবলম্বন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার একাধিক জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীও বলে দেন এবার প্রতিমা নিরঞ্জনে প্রতিমাকেও সম্মান দেখিয়ে বিদায় জানানো হবে।

ক্রেনে প্রতিমা তুলে বিসর্জন দিতে গিয়ে এর আগে বারবার দেখা গেছে তা ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু তার কোনও সুরাহা কোনওবারই হয়নি। এবার তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উলটোদিকে টাকির বিসর্জন নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জেলাতেও রাজ্য সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে একাদশীর দিনও হবে প্রতিমা নিরঞ্জন।

পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে ক্রেনে করে প্রতিমা ট্রলার বা ট্রাক থেকে নামিয়ে জলে বিসর্জন দেওয়া হত। কিন্তু রাজ্য সরকার এ বার সেই প্রথা বাতিল করে দিয়েছে। তার বদলে এ বার ঠিক হয়েছে, বাজেকদমতলা ঘাট এবং নিমতলা ঘাটে প্রতিমা ট্রেলার থেকে নামিয়ে ট্রলিতে করে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে।