জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি শনাক্ত করবে কলকাতার গবেষকদের নতুন যন্ত্র
কলকাতার ছয় গবেষকের তৈরি রিয়েল-টাইম বৈদ্যুতিক লিকেজ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ভারতীয় পেটেন্ট পেয়েছে। বাতিস্তম্ভের বিদ্যুৎ লিকেজ শনাক্ত করে সতর্কবার্তা পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে এই প্রযুক্তি। বর্ষায় শহরের জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন কলকাতার ছয় গবেষক। ‘ইলেক্ট্রোকিউশন ডিটেকশন অ্যান্ড অ্যালার্ট সিস্টেম’ বা EDAS নামের যন্ত্রটির জন্য ভারত সরকারের পেটেন্ট পাওয়া গিয়েছে।

সুত্রেরে খবর অনুযায়ী যন্ত্রটি রাস্তার বাতিস্তম্ভের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। জলমগ্ন এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ আর্থিং বা উন্মুক্ত বিদ্যুৎ-পরিবাহী অংশ থেকে লিকেজ হলে বিশেষ সেন্সর সেটি শনাক্ত করবে। এরপর তথ্য তারবিহীন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে পৌঁছবে।

বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক লিকেজ ধরা পড়লে সিস্টেমটি শব্দ ও আলোর মাধ্যমে স্থানীয় সতর্কতা দিতে পারবে। পাশাপাশি এসএমএস বা অন্য যোগাযোগব্যবস্থায় দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণকক্ষেও বার্তা পাঠানো যাবে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে রিলে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থাও প্রযুক্তিটিতে রয়েছে।

গবেষক দলে রয়েছেন সায়ন ত্রিপাঠী, ঝিলম জানা, অরিজিৎ ধালি, প্রবুদ্ধ বিকাশ চট্টোপাধ্যায়, জয়দেব ভৌমিক এবং চিন্ময় ঘড়াই। তিন বছর ধরে প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং গত বছর যাদবপুর এলাকায় পরীক্ষাও চালানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গবেষকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটির পেটেন্ট নম্বর ৬০৩০৭৪ এবং মঞ্জুরের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তবে এই তথ্যের সরাসরি সরকারি পেটেন্ট নথি পাওয়া যায়নি । উক্ত নম্বর ও তারিখ গবেষকদের প্রকাশিত ঘোষণাভিত্তিক।