চিংড়িঘাটা ব্রিজের ‘বিপত্তি ভিডিও’ ভাইরাল হতেই মুখ খুললেন পুরমন্ত্রী
সৌন্দর্যায়নের পরেই একের পর এক দুর্ঘটনা! চিংড়িঘাটা ব্রিজের ‘বিপত্তি ভিডিও’ ভাইরাল হতেই মুখ খুললেন পুরমন্ত্রী । নতুন রঙেই কি মারাত্মক ঝুঁকি? চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পরপর বাইক দুর্ঘটনার খবর নিয়ে মুখ খুললেন পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী। কী সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন?

চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়ার পর থেকেই তৈরি হয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এমনটাই অভিযোগ পথচারী ও বিরোধীদের। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উড়ালপুলের সেই নতুন রঙিন রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর কয়েকটি মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

এই ঘটনা ও ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি জানান, পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছে।

পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, “আমিও ভিডিওটি দেখতে পেয়েছি। চিংড়িঘাটা ব্রিজে একটি মোটরসাইকেল স্কিড করে এবং সেটি গিয়ে অন্য একটি বাইকে ধাক্কা মারে, যার ফলে সেটিও পড়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে ঘটনাটি ঘটল, তা এখনও আমরা নিশ্চিত নই। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে।”

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একাধিক সরকারি বিভাগকে যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ার,কলকাতা পুলিশের সিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজি, ফায়ার ব্রিগেড এবং পিডব্লিউডি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যে রং ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘অ্যান্টি-স্কিড কালার’, কোনও তেল রং (অয়েল পেইন্ট) ব্যবহার করা হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন এমনটা ঘটল, তা বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররাই বলতে পারবেন।”

প্রকল্পটির টাকা ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারি তহবিল থেকে এই কাজ করা হয়নি। সিএসআর (CSR) ফান্ডের টাকায় শহর সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চালকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পথ খোলা রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের যদি মনে হয় এই রঙের জন্য ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের চোখে কোনও অস্বস্তি বা প্রভাব পড়ছে, তবে প্রয়োজনে তাতে পরিবর্তন করা যেতে পারে। আমরা সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যেই এটা করেছি। পুরো বিষয়টি পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই করা হবে। তবে এটাকে অয়েল পেইন্টিং বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা একেবারেই সঠিক নয়।”