নিউ আলিপুরের স্কুলে শিশুকে আঘাতের অভিযোগ, গ্রেফতার শিক্ষিকা
কলকাতার বুকে আবারো এক প্রি-প্রাইমারি স্কুলে ঘটে গেল নারকীয় ঘটনা। কাঁদার ‘অপরাধে’ দুই বছরের এক একরত্তি শিশুকে আছড়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এই নারকীয় ঘটনায় শিশুটির ডান পায়ে মারাত্মক ফ্র্যাকচার বা হাড়ে চিড় ধরেছে। কলকাতায় প্রি-প্রাইমারি স্কুলে ২ বছরের শিশুর ওপর চরম নৃশংসতা। কাঁদার অপরাধে মেঝেতে আছড়ে ফেলে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে । নিউ আলিপুরের একটি বেসরকারি প্রি-নার্সারি স্কুলে দুই বছরের এক শিশুকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শিশুটির ডান পায়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে। গত শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, কান্নাকাটি করার সময় শিক্ষিকা শিশুটিকে তুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুনন্দা পালকে গ্রেফতার করে পুলিশ । স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর চাকরি বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর, গত শুক্রবার নিউ আলিপুরের একটি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল (Pre-Nursery) থেকে বাড়ি ফেরার পরই দুই বছরের ওই শিশুটি ডান পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাঁদতে শুরু করে। সে তার মাকে পুরো বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করার পর নিশ্চিত করেন যে, শিশুটির ডান পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। এর পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, ক্লাসরুমে শিশুটি অঝোরে কাঁদতে থাকায় মেজাজ হারান সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা সুনন্দা পাল। রাগের মাথায় তিনি দুই বছরের শিশুটিকে তুলে সজোরে ঘরের মেঝেতে আছড়ে ফেলেন। এই ঘটনার ভিত্তিতেই নিউ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবারে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুনন্দা পালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ওই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে। গোটা বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও (Children’s Commission) জানানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত সাধন (Voluntarily causing grievous hurt) এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত জাজমেন্ট জুভেনাইল জাস্টিস (JJ Act) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তে নেমে ওই দিনের ক্লাসরুমের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের বয়ানও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।