সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 15
মোট ভিজিটর 521

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত, নিহত ১৬

0
F

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বহু বাড়ি, নিহত কমপক্ষে ১৬ জন । চিনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু, আহত বহু। ধ্বংসস্তূপে পরিণত শতাধিক বাড়ি, দুর্গত এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। তুষারপাতের আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ।প্রকৃতির ভয়ঙ্কর কোপে সর্বস্বান্ত চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ওই পাহাড়ি এলাকা। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি, এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তীব্র এই ভূকম্পনের জেরে ধসে পড়েছে তিনশোরও বেশি বসতবাড়ি, যার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তীব্র ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড চিনের স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বত। বৃহস্পতিবার রাতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৬ জন। সংবাদসংস্থা এপি (AP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক বাড়িঘর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নাগকু (Nagqu) শহর থেকে ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ভূগর্ভ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে। নাগকু অঞ্চলটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে এক দুর্গম ও পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদসংস্থা সিনহুয়া (Xinhua) সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের তীব্রতায় অঞ্চলটির অন্তত ৩৩৯টি বাসস্থান এবং ২০টি গবাদি পশুর শেড সম্পুর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইতিমধ্যেই ১৬০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকারী সদস্যকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। বিপন্ন মানুষদের আশ্রয়ের জন্য ৩,০০০ তাঁবু, ১,০০০ প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ঘর, ফোল্ডিং বেড, শীতের পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

ভূমিকম্পের ফলে পাহাড়ে ধস ও পাথর গড়িয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক ৩১৭ (National Highway 317) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় বর্তমানে কেবল জরুরি ও ত্রাণবাহী যান ছাড়া অন্য পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, বিস্তীর্ণ এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

চিনের জাতীয় চ্যানেল সিসিটিভি (CCTV)-র মতে, বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই ওই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভৌগোলিক পরিবেশ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকার্যে বড়সড় বাধা তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দফায় দফায় তুষারপাত হতে পারে, যা উদ্ধারকারীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিব্বত অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। এর আগে ২০২৩ সালে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি প্রদেশ গানসুতে ৬.২ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাছাড়া দুই মাসেরও কম সময় আগে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যাতে অন্তত ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং এখনও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed