সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 21
মোট ভিজিটর 527

আর জি কর কাণ্ডে জামিন সন্দীপের, ‘ক্ষুব্ধ’ অভয়ার বাবা, নিশানায় তদন্তকারী সংস্থা

0
F

আর জি কর কাণ্ডে জামিন পেলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপে ঘোষ।এই জামিনে ‘ক্ষুব্ধ ’অভয়ার বাবা, নিশানায় তদন্তকারী সংস্থা। অভয়ার মৃত্যুর পর তৃণমূল আমলে আর জি করের দুর্নীতি সামনে আসে। ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের অভিযোগে গ্রেফতার হন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ।

আর জি কর মেডিক্যালের দুর্নীতি মামলায় জামিন পেয়েছেন হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। শুক্রবার তার জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার তদন্ত ধীর গতিতে চলছে, পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানায় আদালত। এরপরই ফুঁসে উঠলেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। তদন্তকারী সংস্থাকে বিঁধেছেন তিনি। বলেন, “যে সংস্থা কাজ করলে টাকা পায়, না করলে ঘুষ পায়। তাদের নিয়ে কিছু বলব না। মনীষ উপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। তিনি বলেছেন তাঁদের কিছু করার নেই, সময় লাগবে জানিয়েছেন।”

অভয়ার মৃত্যুর পর তৃণমূল আমলে আর জি করের দুর্নীতি সামনে আসে। ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ। অভয়ার বাবা ও মা তথা পানিহাটির বর্তমান বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ তাঁদের মেয়ের মৃত্যুতে প্রভাবশালীদের যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ করেন। এবার সেই সন্দীপ ঘোষ জামিন পেতেই আরও একবার তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।

কিন্তু বর্তমানে তো রাজ্যে বিজেপি সরকার। সেই দলেরই বিধায়ক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। তারপরও এই রকম কেন হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তরে মেয়ে হারানো পিতা জানালেন, “সরকারে থাকলে কী হয়েছে? সরকার কী করবে, সিবিআই স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা। ঠিক করে কাজ না করলে কী করা যাবে। তবে উত্তর দিতেই হবে।” আরও বলেন, “১৪৭ কোটি মানুষ যে সংস্থার উপর ভরসা করছে তাদের যদি এমন গাফিলতি থাকে তাহলে কীভাবে ভরসা করবে। সরকার দায়ী নয়, দায়ী তদন্তকারী সংস্থা। এটা দুর্নীতির মামলা ছিল। আমাদের ধর্ষণের মামলাতেও ওর বিরুদ্ধে চার্জশিটের দাবি করেছি।”

প্রসঙ্গত, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি। ২০২৪ সালের আগস্ট হাসপাতালের গবেষক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পিঠ বাঁচাতে সেই সময় অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। হাসপাতালের মধ্যে এমন নৃশংস ঘটনার প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। পরে সন্দীপবাবুর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা হয়। তাই হাই কোর্ট বিচারের স্বার্থে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেনি।

কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। শুক্রবার তাতেই জামিন মিলেছে। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দু’বছরেরও বেশি সময় জেলবন্দি সন্দীপ ঘোষ। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীর গতির কথা মাথায় রেখে সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে। তারপরই আরও একবার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভয়ার বাবা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed