সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 15
মোট ভিজিটর 521

‘প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে’,‘যাওয়ার সময়ের’ গান শুনিয়ে ইন্দ্রনীলকে খোঁচা শুভেন্দুর, মমতাকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

0
F

বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোমাত্রই গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল সেন।প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে এবং ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে। অপেক্ষা রাখুন।” ইন্দ্রনীল সেন গ্রফতার হতেই বড় মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর পাস মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।

তার দুর্নীতির টাকার অংশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোগ করেছেন বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গ্রেফতারির পরেও সেই একই কথা শোনা গেল তার গলায়। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে বলেই বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, এটা আসলে ‘আন্টি আর বেবির যৌথ লড়াই, যৌথ ভেঞ্চার’। ওঁরা ডুয়েট গাইতেন, এক গাড়িতে ঘুরতেন। ইন্দ্রনীল একা কিছু করেননি । গ্রেফতারি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু সাফ জানান, ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সি নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। এই নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত স্তরে নতুন করে কিছু বলার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দু একাধিক অভিযোগ করেন ।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে বা তাঁরও হাত থেকে থাকতে পারে এসবে ৷ ও একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। ওঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেনন। একসঙ্গে গান গাইতেন।” দুই নেতার অতীতের মঞ্চ ভাগাভাগি ও সংগীতচর্চার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর টিপ্পনী, “শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, দু’জন একসঙ্গে ডুয়েট করেছেন—’আমার বিদায়ের সময় হলো, দাও বিদায়…’—আমার যাওয়ার সময় হলো। দু’জন মিলেই করেছে, ডুয়েট।”

শুভেন্দু এদিন বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে তদন্ত অনেকদিন ধরেই চলেছে। তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছে। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা আইনগত কাজ করেছে। মমতার প্রত্যক্ষ মদতে এসব করেছেন। একা তো খাননি। মমতার সঙ্গে একই গাড়িতে ঘুরতেন। গান গাইতেন।” এরপর গান গেয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, “শেষ গানটাও শুনেছি, আমার যাওয়ার সময় হল, দাও বিদায়।”

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গ্রেফতার হলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার সন্ধেয় CGO কমপ্লেক্সে ED-র দফতর থেকে বেরোতেই গ্রেফতার করা হয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনকে। তারপর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে। বৃহস্পতিবার পেশ করা হবে আদালতে। এই দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়ায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়েরও। এই ঘটনা নিয়ে আজ নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও ইন্দ্রনীল সেনের একসঙ্গে গাওয়া একটি গান নিজেই গেয়ে শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী।

গত ৮ জুন বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি করেছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। যার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তিনি বলেন, ”ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’ যে কার্টেলটা চালিয়েছিল, যে ইউনেস্কো নাকি কলকাতার ৮০০-৯০০ দুর্গাপুজোর মধ্যে ২৪টা পুজোকে বেছে নিয়েছে, এই ২৪টা পুজোতে প্রথম ৪ দিন মানুষকে টিকিট কেটে এই ২৪টা প্যান্ডেলে ঢুকতে হবে। বাইরের অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।” জয়দীপ আরও বলেন যে, ”এখন অবধি তো কয়েকশো কোটি টাকা পেয়েছে। আরও তদন্ত করলে… এটা একটা বিরাট কার্টল। একটা কার্টল তৈরি হয়েছিল। উনি…তথ্য সংস্কৃতি দফতর, এটা অনেক বড় কার্টল। মিনিস্ট্রি থেকে টাকা গেছে, আরও ব্র্যান্ডিং কোম্পানি থেকে উঠিয়েছে, পাবলিক মানি উঠিয়েছে, এখানে পাবলিক মানির ক্ষতি হয়েছে। এটা একটা বিরাট কার্টল।”

সম্প্রতি, এনিয়ে ECIR দায়ের করে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ED। ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি এবং আত্মীয়দের ঠিকানা সহ বহু জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। ইন্দ্রনীল সেনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। বুধবারও এই মামলাতেই তলব করা হয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনকে। দুপুর ২টো নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন তিনি। এর মধ্যেই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনকে। এর আগে কলকাতা পুলিশ একাধিকবার ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। উল্টে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিনতু তাঁর সেই আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত। সুপ্রিম কোর্টও ইন্দ্রনীল সেনের মামলা শোনেনি। ফলে কোনও রক্ষাকবচই ছিল না তাঁর। ফলে গ্রেফতার হন প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। এরপর এই গ্রফতারি নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমরা জানতাম যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইন্দ্রনীল সেন, দু’জনে একে অপরের পরিপূরক ছিল। অতএব একা ইন্দ্রনীল সেন খেয়েছে, এটা বলা অত্যন্ত ভুল হবে। তিনি যেমন আগে সিপিএমকে খাইয়ে খেতেন, সিপিএমের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পেনার ছিলেন, তারা পরবর্তীকালে সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে এবং ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল সেনের গানের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এবং উনারও ভাগ থেকে থাকতে পারে। একাতো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। উনার সঙ্গে এক গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন, একসঙ্গে গান করতেন। শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, দুজন একসঙ্গে ডুয়েট করেছে। আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়। দুজনে মিলে গান করেছেন। অতয়েব, আর্টিস্টদের খাম থেকেও হয়ত টাকা নিয়ে নিতেন। বউ-এর নাম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed