কলকাতায় দিনে ৬৮০ টন খাবার অপচয়ের আশঙ্কা
কলকাতায় খাদ্য অপচয়।কলকাতায় দিনে প্রায় ৬৮০ টন খাবার অপচয়ের আশঙ্কা, হিসাব এখনও আনুমানিক । জাতীয় মাথাপিছু গৃহস্থালি খাদ্য-অপচয়ের গড় কলকাতার জনসংখ্যার উপর প্রয়োগ করে দৈনিক প্রায় ৬৭৮ টন খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাব্য হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটি কলকাতায় সরাসরি চালানো কোনও বর্জ্য-পরিমাপ সমীক্ষার ফল নয়।

কলকাতার বাড়িগুলিতে প্রতিদিন আনুমানিক ৬৮০ টন খাবার নষ্ট হতে পারে বলে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটিকে নিশ্চিত সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা উচিত নয়—এটি জাতীয় মাথাপিছু গড় থেকে করা একটি আনুমানিক হিসাব। তবে এই হিসাবটি মূলত ২০১৯-২০ সালের আনুমানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, তাই এটিকে বর্তমান সময়ের একদম নিখুঁত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ কর্মসূচি বা UNEP-এর Food Waste Index Report 2024 অনুযায়ী, ভারতে গৃহস্থালি পর্যায়ে একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে প্রায় ৫৫ কিলোগ্রাম খাদ্য নষ্ট করেন। কলকাতা পুরসভার সরকারি হিসাবে শহরের জনসংখ্যা ৪৫ লক্ষের বেশি। এই দুটি সংখ্যা ধরে হিসাব করলে বছরে প্রায় ২.৪৮ লক্ষ টন, অর্থাৎ দিনে প্রায় ৬৭৮ টন গৃহস্থালি খাদ্য অপচয়ের সম্ভাব্য পরিমাণ পাওয়া যায়। UNEP-এর রিপোর্ট এবং KMC-র মৌলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী খাবার অপচয়ের আনুমানিক পরিমান দিনে প্রায় ৬৭৮ টন ।

এই হিসাবের মধ্যে হোটেল, রেস্তরাঁ, বাজার, বিয়ে, উৎসব কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নষ্ট হওয়া খাবার অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে বাস্তব পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। আবার শহরের গৃহস্থালি খাদ্যবর্জ্য আলাদাভাবে নিয়মিত মাপা না হওয়ায় ৬৭৮ টনের সংখ্যাটি কম বা বেশিও হতে পারে। নির্ভুল সিদ্ধান্তের জন্য কলকাতাভিত্তিক বর্জ্য নিরীক্ষা প্রয়োজন।
কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্তু তার কতটা খাওয়ার উপযোগী খাবার, রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য কিংবা অন্য ধরনের আবর্জনা—তার নিয়মিত প্রকাশিত বিশদ বিভাজন পাওয়া যায় না। এই তথ্যের ঘাটতিই খাদ্য অপচয় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় বড় বাধা।

জুলাইয়ে রাজ্য সরকার হোটেল, রেস্তরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে নিরাপদ উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ, শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, অতিরিক্ত রান্না এড়ানো, অবশিষ্ট খাবার নিরাপদে সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য কম্পোস্ট করার মাধ্যমে অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে মাথা পিছু বার্ষিক খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৫ কেজি।

মহানগরে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে একটি বড় অংশের মানুষের পুষ্টির অভাব ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।২০১৯ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার বস্তি এলাকার প্রায় ৭২.৪% পরিবার কোনো না কোনোভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অর্থাৎ শহরে খাবার অপচয় এবং অনাহার একই সাথে সহাবস্থান করছে।