সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 15
মোট ভিজিটর 521

ভুটানের হিমবাহ লেক ফেটে ধেয়ে আসছে জল, উত্তরবঙ্গে বন্যার অ্যালার্ট, নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হলো ১২ হাজার বাসিন্দাদের

0
F

নেপালের পর এবার ভুটান। ওই দেশের শিনতাফু লেক ফেটে হিমবাহের জল হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে। যার ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপদের মুখে রয়েছে ভারত। বন্যায় ভাসতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। এমনকী অসমেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের একাধিক এলাকার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ভারত সরকার।

হিমবাহ-হ্রদ ফেটে বিপর্যস্ত ভুটান। হড়পা বানে তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা। হুড়মুড়িয়ে নামছে হিমবাহ ও কাদা-পাথর মিশ্রিত জল। তার জেরেই ফুঁসছে আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশ নদী। একাধিক এলাকায় জারি হয়েছে সতর্কতা। চলছে মাইকিং। বন্যার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই ১২ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

হিমবাহ গলা জলে হ্রদ তৈরি হয়েছিল ভুটানের গাসায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই হ্রদের পাড় ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় নেমে আসে বিপুল জলরাশি। ভেসে যায় একাধিক এলাকা। এর পরেই অসম ও উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি এলাকায় জারি হয় সতর্কতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্লেসিয়াল লেক ফেটে যাওয়ায় সঙ্কোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে অসমের ধুবরি জেলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার কেন্দ্রে ভুটানের গাসা জেলার লায়া গেওগের লুঙ্গো এলাকায় ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু লেক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই লেক ফেটে হঠাৎই জল বেরিয়ে আসে। যার জেরে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে সাইরেন বাজানো হয়। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ ভেঙে হড়পা বান ভুটানে! উত্তরবঙ্গ, অসমে সতর্কতা! সঙ্কোশ নদীর জলস্তর না-বাড়ায় স্বস্তি আলিপুরদুয়ারে। হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা। হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ ভেঙে বিপর্যয় ভুটানে!

ভুটান থেকে নেমে আসা সঙ্কোশ নদীর জল বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা ছিল উত্তরবঙ্গ এবং অসমের একাংশেও। এই বিষয়ে সতর্কও করেছিল প্রশাসন। তবে হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার শিন্টাফু হ্রদ থেকে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল বেরিয়ে আসে। হিমবাহগলা জল জমে তৈরি হয়েছে হ্রদটি। জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাসা শাচু উষ্ণ প্রস্রবণ সংলগ্ন পরিকাঠামো। জলস্তর বেড়ে যায় মো ছু নদীর। হড়পা বানের জেরে ভুটানে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পুনাখায় একটি জলসেচ প্রকল্প আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে পুনাখা-গাসা সড়কের একাংশ। হিমবাহ থেকে তৈরি হওয়া ভুটানের যে ১৭টি হ্রদ বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলির মধ্যে শিন্টাফু অন্যতম। ২০২১ সালের ২৬ অগস্ট এই হ্রদের জল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মো ছু নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। নদীটি খাত পরিবর্তন করেছিল। সেই সময়েও ধুয়ে গিয়েছিল উষ্ণ প্রস্রবণটি।

উত্তরবঙ্গের ভুটান সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বন্যার সতর্কতা জারি হওয়ার পরেই সঙ্কোশ নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অনেকে আবার আতঙ্কে জাতীয় সড়কের উপরেই রাত কাটান। তবে সকালে সঙ্কোশের শান্ত রূপ দেখে কুমারগ্রাম ব্লকের অনেক বাসিন্দাই বাড়ি ফিরতে চাইছেন। কেউ কেউ বাড়ি ফিরতেও শুরু করেছেন।

আলিপুরদুয়ারের প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে বাড়ছে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর। বেড়েছে প্রায় দু’ফুট। অবস্থার অবনতি হলে, সঙ্কোশের পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সের একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শা। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে সঙ্কোশ নদীর পাড়ের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিয়ে যাওয়া হয়েছে ত্রাণ শিবিরে। পানীয় জল, শুকনো খাবার এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদেরও বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

ভুটানের হড়পা বান নিয়ে কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে সতর্ক করার পরেই নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের তরফে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়। যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed