ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রসচিব
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন? সুপ্রিম কোর্টে তার ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র। নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে হলফনামায় দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে আদালতের নির্দেশ পালন করতে না পারার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারের আবেদনও জানিয়েছে কেন্দ্র।

গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ, ৮ অক্টোবর রাত থেকেই দিল্লিগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। বন্ধ রাখা হয় ৫৭টি মেট্রো স্টেশনও। রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেডের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক আধাসেনা।

কিন্তু এই পদক্ষেপের আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, বিক্ষোভের কারণে রাজধানীকে অবরুদ্ধ করা যাবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে ট্রেন বা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।বুধবার আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে গোবিন্দ মোহন জানান, নির্দেশ অমান্য করার ঘটনা ইচ্ছাকৃত ছিল না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে কেন্দ্রের বক্তব্য। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ সংশোধনের আবেদনও জানিয়েছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ করা হলে তা আইন মেনেই করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কেন্দ্রের ক্ষমাপ্রার্থনা ও বিধিনিষেধ সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর। আদালতের বেঞ্চ গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) চেয়ারপারসন ডি থারার প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।

দিল্লি পুলিশের তরফে শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে সাময়িকভাবে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশ পালন করতে না পারার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারেরও আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কোনও ইচ্ছা তাঁদের ছিল না। তাই এই ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশে পরিবর্তন আনার আবেদনও জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করতে হলে আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা। এখন কেন্দ্রের ক্ষমাপ্রার্থনা এবং আদালত অবমাননার নোটিস প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।