সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 21
মোট ভিজিটর 527

ধর্ম বদল করলে আর মিলবে না জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের সুবিধা জানাল সুপ্রিম কোর্ট

0
F2

ধর্ম বদল করলে আর মিলবে না জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের সুবিধা! তামিলনাডু সরকারের আর্জি খারিজ করে রায় সুপ্রিম কোর্টের। মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর পূর্বের জাতিগত পরিচয় হারাবেন। হারাবেন কোটা পাওয়ার অধিকারও।

হিন্দুধর্ম থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হলে আগেকার জাতিভিত্তিক সামাজিক অনগ্রসরতার নিরিখে সংরক্ষণ বা কোটার সুবিধা দাবি করা যাবে না। বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট! বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ তামিলনাড়ু সরকারের এ সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে।

পাশাপাশি, শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধধর্ম ব্যতীত অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে তফসিলি জাতিভুক্ত বলে চিহ্নিত করা যাবে না। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে তামিলনাড়ু সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, কোনও হিন্দু তফসিলি জাতি (এসসি), অনগ্রসর (মোস্ট ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস বা এমবিসি) এবং অনগ্রসর (ওবিসি) শ্রেণির মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে, তাঁকে রাজ্যে ‘অনগ্রসর মুসলিম’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী তিনি সংরক্ষণের কোটা পাবেন।

তামিলনাড়ু সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। চলতি বছরের জুন মাসে মাদ্রাজ হাই কোর্ট সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ চিহ্নিত করে বাতিল করে। রায় দিয়েছিল— ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর পূর্বের জাতিগত পরিচয় হারাবেন। বৃহস্পতিবার একই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চও। রায়ে বলা হয়েছে— যে ব্যক্তি হিন্দু সমাজ থেকে অ-হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হন, তিনি সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর প্রাক্-ধর্মান্তরিত জাতিসত্তায় যুক্ত সামাজিক পশ্চাদপদতার ভিত্তিতে সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।

রায় ঘোষণা করতে গিয়ে দুই বিচারপতির বেঞ্চ যুক্তি দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পূর্ববর্তী সামাজিক ব্যবস্থায় পশ্চাদপদতা-জনিত যে কোটার সুযোগ পাচ্ছিলেন, নিজে থেকেই সেই সমাজ ছেড়ে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। তাই তাঁকে অনগ্রসর শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করা যায় না। প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুতে অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত এক ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য ২০১৫ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘মুসলিম অনগ্রসর’ হিসেবে জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর পরে মামলা গড়ায় মাদ্রাজ হাই কোর্টে। মামলার শুনানিতে তামিলনাড়ু সরকার দাবি করেছিল, ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী যোগ্য ব্যক্তিদের অনগ্রসর শ্রেণি (মুসলিম) সম্প্রদায়ের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed