সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 19
মোট ভিজিটর 525

সব পরিকল্পনায় জল! জ্ঞানেশের ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হল ইন্ডি জোট,শেষমুহূর্তে স্থগিত জ্ঞানেশের অপসারণে ‘নকল সংসদ’! নাম ও পদ্ধতি পাল্টেছিল আগেই, নেপথ্যে কোন কোন কারণ?

0
F1

সব পরিকল্পনা ছকে ফেলা হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রস্তাবিত ইমপিচমেন্টের ‘নাটকে’র স্ক্রিপ্টও তৈরি ছিল। কিন্তু ইন্ডি জোটের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিল আবহাওয়া। বৃষ্টির জন্য শুক্রবারে জনতার ইমপিচমেন্ট পিছিয়ে দিল বিরোধী শিবির। অন্তত এমনটাই দাবি কংগ্রেস শিবিরের। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সূত্রে খবর, শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার হবে ওই ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি। ওই কর্মসূচিতে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার স্পিকারের ভূমিকা পালন করবেন।

প্রাথমিকভাবে শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে ‘নকল সংসদ’ বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন মহাভিযোগ’। যাতে কোনওভাবেই সংসদ ভবনের অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ না হতে হয়, সেজন্য নাম বদল করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়, ওই ‘জন মহাভিযোগে’ স্পিকারের ভূমিকায় থাকবেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব দেবে। তাতে একে একে বক্তব্য রাখবেন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কয়েকজনকেও সেখানে বলার সুযোগ দেওয়া হবে। ভাষণ শেষ করবেন রাহুল গান্ধী।

আইনি জটিলতা ও সংসদ অবমাননা সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইন্ডিয়া’র ‘মক পার্লামেন্ট’ (নকল সংসদ) কর্মসূচির নাম এবং পদ্ধতিতে বদল আনা হয়েছিল বৃহস্পতিবার। এ বার বদলানো হল নির্ঘণ্ট। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’-এর কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বদল করা হয়েছে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত? কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে বৃষ্টি এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণেই খড়্গের বাংলোর খোলা লনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবার হবে ওই কর্মসূচি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী শুক্রবার দুপুরে জানান, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ‘ভারতীয়ত্বের ধারণা’ এবং ‘জনগণের ভোটের অধিকার’ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘‘রবিবার রামলীলা ময়দানের বিরোধী জোটের সমাবেশের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও আলাদা আলাদা বিক্ষোভ নয়, এ বার প্রতিবাদ হবে একসঙ্গে, ঐক্যবদ্ধ ভাবে।’’

প্রসঙ্গত, আগেই শুক্রবারের ‘নকল সংসদ’ কর্মসূচির নাম বদলে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ (জন মহাভিযোগ) রাখা হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’র তরফে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, ওই কর্মসূচিতে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার স্পিকারের ভূমিকা পালন করলেও, আর কেউ কোনও পদাধিকারীর ভূমিকা পালন করবেন না। বিরোধীদের শনিবারের ‘জ্ঞানেশ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিতে কোনও ‘ট্রেজ়ারি বেঞ্চ’ বা সরকার পক্ষের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকছে না। বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে যাতে সংসদ অমর্যাদার অভিযোগ না ওঠে, সেই কারণেই এই বদল আনা হয়েছে বলে কংগ্রেসের একটি সূত্র জানাচ্ছে।

কিন্তু সেসব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল। শুক্রবার সকাল থেকে দিল্লিতে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। যার জেরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জল জমে গিয়েছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, ওই জল জমার জন্য খাড়গের বাড়িতে কোনওরকম আয়োজন সম্ভব নয়। সেজন্যই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওই প্রস্তাবিত জনতার ইমপিচমেন্ট। যদিও পুরোপুরি ওই পরিকল্পনা বাতিল করা হচ্ছে না। ইন্ডি জোটের রামলীলা ময়দানের মেগা জনসভার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ শনিবার ফের ওই জনতার ইমপিচমেন্টের আয়োজন করা হবে।

তবে মীরা ওই কর্মসূচির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত মেনেই ‘ভোটচুরি’ এবং এসআইআর সংক্রান্ত অনিয়মে অভিযুক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাঠ করবেন। বাকি সময়, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা জ্ঞানেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবেন।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন খড়্গে। ‘ইন্ডিয়া’ সূত্রের খবর, খড়্গের ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয় আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে সাংসদ সংখ্যার নিরিখে সহযোগী দলগুলিকে বক্তৃতার সময় বরাদ্দ করা হবে। কংগ্রেসের পর সবচেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে সমাজবাদী পার্টির জন্য। এর পর সুযোগ পাবে মমতা তৃণমূল। মমতা তৃণমূলের তরফে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কীর্তি আজাদ, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। বিরোধী জোটের এই ‘জ্ঞানেশ-অপসারণ’ কর্মসূচির শেষ বক্তা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। যদিও শুধু জল জমাটাই ওই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার কারণ নাকি এর নেপথ্যে কোনও কারণ আছে, সেটা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল। ইন্ডি জোটের অনেক নেতাই এখনও দিল্লিতে পৌঁছাননি। অনেকেই হয়তো শনিবার পৌঁছবেন। সেকারণেই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হল না তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed