সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 19
মোট ভিজিটর 525

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের ‘জনতার অভিশংসন’ প্রক্রিয়া

0
F

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশ ও সংবিধানের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানাল কংগ্রেস। শনিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবনে প্রতীকী ‘জনতার অভিশংসন’ প্রক্রিয়ার আয়োজন করে এই দাবি জানানো হয়।

লোকসভার অন্দরসজ্জা, স্পিকারের আসন-সহ একটি বিশেষ মঞ্চ তৈরি করে এই প্রতীকী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মল্লিকার্জুন খাড়গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পাঠ করেন এবং প্রতীকী অধিবেশনে বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করেন। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। খাড়গে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে জ্ঞানেশ কুমারের উপস্থিতি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং সংবিধানের পক্ষে হুমকিস্বরূপ।

প্রতীকী প্রস্তাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র করেছেন, ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম-৬-এর নিয়ম পরিবর্তন করেছেন, ইসিআইনেট-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করেছেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যুবসমাজকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলার জন্য সরকারকে আক্রমণ করেন খাড়গে। পাশাপাশি, সংবিধান গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের বিরোধিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।

খাড়গে বলেন, “বিজেপির কারণে গণতন্ত্রের যে ভিত্তি আজ বিপন্ন, আমরা সেই ভিত্তিকে রক্ষা করতে চাই।”তিনি অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।

কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলি ও কার্যকালের মেয়াদ) আইন অবিলম্বে বাতিলের দাবিও জানান। তাঁর অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাড়গে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা দেশের ৬০ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করেন। এই প্রতীকী ‘অভিশংসন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগে আদালতে বিচার হওয়া উচিত। প্রতীকী অধিবেশনে বিতর্ক শুরুর জন্য খাড়গে প্রস্তাব পেশ করলে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে সমর্থন জানান। পাশাপাশি, ‘ভোট চোর, গদ্দি ছোড়’ স্লোগানও তোলেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed