সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 31
মোট ভিজিটর 569

বিরোধী ‘রামলীলা’র পাল্টা ‘নবীন’ যাত্রা! ‘আপনার পূর্ব পুরুষকেও জনতা শিক্ষা দিয়েছিল’! কলকাতায় রাহুল গাঁধীকে ঝাঁঝালো তোপ নিতিনের, হায়দরাবাদে হাঁটছেন শাহ

0
F

বিরোধী ‘রামলীলা’র পাল্টা ‘নবীন’ যাত্রা! কলকাতায় তেরঙ্গা কাঁধে শমীক-শুভেন্দুর সাথে হাঁটছেন নিতিন নবীন। মিছিলটি কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যায়। ‘আপনার পূর্ব পুরুষকেও জনতা শিক্ষা দিয়েছিল’! কলকাতায় শক্তি প্রদর্শন সেরে রাহুল গাঁধীকে ঝাঁঝালো তোপ নিতিনের । বিকেল ৪টে ২০ নাগাদ কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল যাত্রা শুরু করে। কোনও ট্রাকে বা হুডখোলা গাড়িতে নয়, কলেজ স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত হেঁটেই যাত্রা শুরু করেন নিতিন। এক পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্য পাশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি করছে বিরোধীরা। রাস্তায় নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টিও। এই ধারাবাহিক কর্মসূচির পালটা হিসেবে পথে নেমেছে বিজেপি। ভারতের একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তারা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার কলকাতার রাজপথে মিছিল করছে বিজেপি । মিছিলটি কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়েছে। যাবে ধর্মতলা পর্যন্ত।

মিছিলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন । তাঁর সঙ্গে মিছিলের প্রথম সারিতেই হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনজনের কাঁধেই রয়েছে জাতীয় পতাকা। বিজেপির এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এদিন হয়দরাবাদে তেরঙ্গা কাঁধে হাঁটছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

সোমবার দুপুরেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতীন নবীন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যরা। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা কলেজ স্ট্রিটের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে আগে থেকে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছে তেরঙ্গা কাঁধে নিয়ে মিছিল শুরু করেন নীতীন নবীন। পাশেই ছিলেন শুভেন্দু ও শমীকও। মূলত বিরোধীদের মিথ্যাচার ও ‘আরশোলাদের অরাজকতা’র বিরুদ্ধেই শহরে শহরে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।

সেই উদ্দেশ্যেই এই মেগা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। হায়দরাবাদে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি থেকে বিরোধীদের আক্রমণ করেন অমিত শাহ। রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডি’ জোটের কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দিল্লিতে বিরোধীদের কর্মসূচি ‘ভোট বাঁচাও’ কর্মসূচি ছিল না। অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও ব়্যালি ছিল।” এই সভা থেকে সরাসরি কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে বাধ্য হওয়ার পর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি এবং বিরোধী শিবির ‘রাস্তার লড়াই’য়ে বেশি করে আস্থা দেখাতে শুরু করেছে। কখনও মুম্বই, কখনও বেঙ্গালুরু, কখনও দিল্লি দেশের নানা প্রান্তে জমায়েতের ডাক দেওয়া শুরু হয়েছে। তাই গোটা দেশে পাল্টা পথে নামা শুরু করেছে বিজেপি-ও। কর্মসূচির পোশাকি নাম ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’। আসল লক্ষ্য, বিরোধী শিবিরের জমায়েতগুলিকে আকার আয়তনে পিছনে ফেলে পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করা। কলকাতায় সোমবার সেই কর্মসূচিতেই অংশ নিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিরাট মিছিলে শক্তিপ্রদর্শনের পরে ধর্মতলার মঞ্চ থেকে রাহুল গাঁধী, গাঁধী পরিবার এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির আওতায় বিজেপি প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি বড় মিছিলের ডাক দিয়েছে। প্রথম মিছিলটি হল কলকাতায়। এর পরে হাওড়া, শিলিগুড়ি, কৃষ্ণনগর, দুর্গাপুরেও মিছিল হবে। তবে সোমবার কলকাতাতেই বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধী শিবিরের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এই কর্মসূচি পাল্টা শক্তি প্রদর্শন। কলকাতার পাশাপাশি শহরতলি এবং দুই ২৪ পরগনার বিজেপি কর্মীদের ডাকা হয়েছিল সোমবারের মিছিলে। কলেজ স্কোয়্যার ছিল জমায়েত স্থল। তার জেরে দুপুর ২টো থেকেই মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ হতে শুরু করে। কলেজ স্ট্রিট এবং বিধান সরণি জুড়ে বিজেপি কর্মীরা জমা হতে শুরু করেছিলেন। ফলে সে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ তো ছিলই। কলেজ স্ট্রিটের দিকে যাওয়া বিভিন্ন রাস্তার মুখেও পুলিশ ব্যারিকেড লাগিয়ে দিয়েছিল। বাঁশের ব্যারিকেডে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল মিছিলের যাত্রাপথের দু’ধারের ফুটপাথ। আর জেলা থেকে বিজেপি কর্মীদের কলকাতায় নিয়ে আসা বাসগুলির সারিতে ক্রমশ ভরে উঠতে শুরু করেছিল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের দু’পাশ।

বেলা ৩টেয় মিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিহারের ভাগলপুরে মিছিল সেরে কলকাতায় আসতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিনের বেশ কিছুটা দেরি হয়। বিকেল ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল যাত্রা শুরু করে। কোনও ট্রাকে বা হুডখোলা গাড়িতে নয়, কলেজ স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত হেঁটেই যাত্রা শুরু করেন নিতিন। এক পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্য পাশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে কলকাতায় এত বড় জমায়েত এবং মিছিলের জেরে ট্র্যাফিকের হাঁসফাঁস অবস্থা হতে পারে, সে কথা বিজেপি নেতৃত্বের অজানা সম্ভবত ছিল না। কিন্তু বিরোধী শিবিরের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে শক্তি প্রদর্শনই যেহেতু লক্ষ্য, সেহেতু কাজের দিনে জমজমাট কলকাতাকে সাক্ষী রেখেই তা করা হল। তবে ‘শক্তি প্রদর্শন’ তত্ত্ব পুরোপুরি মানতে চাননি বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর কথায়, ‘‘কোনও শক্তি প্রদর্শন এটা নয়। গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। আমরা শক্তি প্রদর্শন যে দিন করব, সে দিন ককরোচ, ছারপোকা কাউকে দেখা যাবে না। তারা সে দিন হয়তো বাংলাদেশে বা পাকিস্তানে বিরিয়ানি খাবে, ভারতে নয়।’’

বিজেপির মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছোনোর পরে সংক্ষিপ্ত সভাও হয়। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্রবেশপথের সামনে তৈরি হয়েছিল মঞ্চ। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক মাত্র মিনিটখানেকের জন্য বলতে ওঠেন। সর্বভারতীয় সভাপতি বলবেন, তাই তিনি ভাষণ দীর্ঘায়িত করবেন না বলে শমীক জানান। তাঁর পরে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘ভাগলপুরের কর্মসূচির কারণে আমাদের সর্বভারতীয় সভাপতি দু’ঘণ্টা দেরিতে এসেছেন। তা সত্ত্বেও রাস্তা জুড়ে বিপুল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। প্রত্যেকটা বাড়ি থেকে, দোকান থেকে, গোটা কলকাতা মহানগর আজ সর্বভারতীয় সভাপতিকে স্বাগত জানিয়েছে বন্দে মাতরম স্লোগান দিয়ে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed