সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 33
মোট ভিজিটর 571

দিল্লির রামলীলাময়দানে ইন্ডি জোটের মহাসমাবেশের জেরে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ, কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

0
F

দিল্লিতে প্রায় রোজই হচ্ছে আন্দোলন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। তবে দিল্লিতে প্রতিবাদের সুবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও জায়গা দখল করে রাখা যাবে না। মঙ্গলবার এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘প্রতিবাদের নামে দিনের পর দিন কোনও জায়গা দখল করা যায় না’! দিল্লি-বিক্ষোভ নিয়ে শুনানিতে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের।

দিল্লির ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি উদ্বেগপ্রকাশ করেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘‘উৎসবের মরসুমে এ ভাবে দিনের পর দিন দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসার ক্ষতি হয়। ’’আসলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাতে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ব্যবসায়ী সংগঠন মামলা দায়ের করেছে। তার ভিত্তিতেই দিল্লি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাইল শীর্ষ আদালত।

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠল। ইন্ডি জোটের মহাসমাবেশের জেরে দিল্লিতে ১১ হাজার কোটির ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি চেম্বার অফ ট্রেড ইন্ডাস্ট্রিজের। সংগঠনের দাবি, ১ নভেম্বরের এই মেগাসভার কারণে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ ছিল। রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসা প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়৷ পাশাপাশি, ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে, তাই বলে প্রতিবাদের নামে কোনও জায়গা দিনের পর দিন দখল করে রাখা যায় না! মঙ্গলবার দিল্লিতে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভের জেরে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘প্রতিবাদ ও ব্যবসা করার অধিকার— দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অনির্দিষ্ট দকালের জন্য একটি জায়গা দখল করে রাখতে পারেন না। অন্য প্রতিবাদীরাও আছেন। কৃষক, ব্যবসায়ী বা আইনজীবীরা কোথায় যাবেন? প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের আছে!’’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনের তেজ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। শুধু বিরোধী শিবির নয়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-ও জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে পথে নেমেছে। দিল্লিতে চলছে বিভিন্ন কর্মসূচি। লাগাতার এই প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, এই বিক্ষোভের ফলে উৎসবের মরসুমে তাঁদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। মঙ্গলবারের শুনানিতে সেই সব বিষয়ও উত্থাপিত হয়।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাতে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ব্যবসায়ী সংগঠন মামলা দায়ের করেছে। তার ভিত্তিতেই দিল্লি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাইল শীর্ষ আদালত।এ দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, অন্যদেরও নিজেদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া জানানোর সুযোগ দিতে হবে। আর এই মামলার শুনানিতে আরও একাধিক বিষয় উঠে আসে। যেমন ধরুন, গণহারে আটক, পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ, দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি। এরপর কোর্ট স্পষ্ট জানায়, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার রয়েছে। আবার সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের অধিকারও রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপর জোর দেয় আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কোনও জায়গা সব সময়ের জন্য দখল করে রাখা যায় না। কৃষকরা কোথায় যাবেন? সাংবাদিকরাই বা কোথায় যাবেন? প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বরাদ্দ করতে হবে।’


তিনি আরও জানান, কোনও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার সময় তার শর্তাবলি এবং নিয়মকানুন স্পষ্ট করে দিতে হবে। প্রধান বিচারপতির কথায়, ‘আমি এখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছি বলে অন্যদের আটকাতে পারি না। অন্যদেরও নিজেদের বক্তব্য জানানোর অধিকার রয়েছে।’

আসলে দিল্লিতে একের পর এক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে। যার জেরে ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বারবার দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাতে স্বাভাবিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)-র দাবি, গত ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের বিশাল সমাবেশ ছিল। সেই কারণে দিল্লিতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনটির দাবি, এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে খুচরো ও পাইকারি বাজার, পরিবহণ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে। ওই দিন প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলেও দাবি করেছে তারা।এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখেছে সিটিআই। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত মিছিল, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং অবস্থান বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনটির আরও দাবি, গত এক মাসে বারবার রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে রাজধানীর ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed