আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়া বনগাঁর সেই তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মিলল জাল নোট
অস্ত্র আইনের ২৫(১) (এ) ধারায় ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অস্ত্র আইন, যৌন নির্যাতন, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর এবার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল বনগাঁয়। বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা জাফর আলি মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২১ হাজার টাকার জাল ভারতীয় নোট উদ্ধার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ৫০০ টাকার মোট ৪২টি জাল নোট।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাফর আলি মণ্ডল ওরফে জাফর আলি (৫২) আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে বনগাঁ থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বনগাঁ থানার ৬৫৩ নম্বর মামলায় গত ১৩ অগস্ট অস্ত্র আইনের ২৫(১)(এ) ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সেই জেরাতেই তিনি জানান, রামকৃষ্ণপল্লিতে তাঁর বাড়িতে ৫০০ টাকার ৪২টি জাল ভারতীয় নোট লুকিয়ে রাখা রয়েছে। এরপর ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ধৃতের দেখানো জায়গা থেকেই উদ্ধার হয় ৫০০ টাকার ৪২টি জাল নোট। যার মোট মূল্য ২১ হাজার টাকা।

জাল নোট কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে বড়সড় সাফল্য। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হল ৫০০ টাকার ৪২টি জাল ভারতীয় নোট। উদ্ধার হওয়া নোটগুলির মোট মূল্য ২১ হাজার টাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁ এলাকায়। আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছিলেন বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা জাফর আলি মণ্ডল। এ বার সেই তৃণমূল নেতার নাম জড়াল জাল নোট কেলেঙ্কারিতে। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মিলল ২১ হাজার টাকার জাল নোট। প্রত্যেকটিই ৫০০ টাকার নোট।

আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জাফর বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে জেরা করে উঠে এসেছে নানা তথ্য। পুলিশ জানতে পারে রামকৃষ্ণপল্লিতে তাঁর বাড়িতে লুকিয়ে রাখা রয়েছে ৫০০ টাকার ৪২টি জাল নোট! ধৃতের দেওয়া সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় বনগাঁ থানার পুলিশ।

আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় গ্রেফতার পর জাফরের বাড়ি থেকে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথা থেকে এই জাল নোট এল, কোন চক্র জড়িত রয়েছে এই কারবারের নেপথ্যে? এই সব তথ্য জানতে জাফরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। আগ্নেয়াস্ত্র মামলার পাশাপাশি এ বার জাল নোট কারবারের তদন্তও শুরু করল পুলিশ।

অস্ত্র আইনের ২৫(১) (এ) ধারায় জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অস্ত্র আইন, যৌন নির্যাতন, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভুয়ো ভোটের প্রতিবাদ করায় বিজেপির এক প্রার্থী ও তাঁর স্বামীর উপরে হামলা চালান জাফর ও তাঁর সহযোগীরা। এ বার সেই সব মামলায় সঙ্গে জুড়ল জাল নোট কেলেঙ্কারিও।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশকে দেওয়া বয়ানে জাফর আলী মন্ডল জানান, রামকৃষ্ণপল্লীতে অবস্থিত তার নিজের বাড়িতে বেশ কিছু জাল ভারতীয় নোট লুকিয়ে রাখা রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৫০০ টাকার মোট ৪২টি জাল নোট মজুত ছিল। যার মোট মূল্য ২১ হাজার টাকা।

এই তথ্য পাওয়ার পর আর দেরি করেননি তদন্তকারীরা। পুলিশি দল দ্রুত রামকৃষ্ণপল্লীতে তার বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযুক্তের দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতেই উদ্ধার হয় ৫০০ টাকার ৪২টি নোট। প্রাথমিকভাবে সেগুলিকে জাল ভারতীয় মুদ্রা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলি বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

তবে এই জাল নোট কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না এবং অন্য কেউ এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। উদ্ধার হওয়া নোটগুলি পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলির জালিয়াতির বিষয়টি আরও নিশ্চিত করা এবং এই কারবারের উৎস সন্ধান করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।