সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 28
মোট ভিজিটর 534

মমতার পাশে ‘নেই’ মহিলা মুখ? প্রার্থী খুঁজতে নাজেহাল ঋত শিবিরও, বড় সমস্যা ৭০টা ওয়ার্ড

0
FF

কলকাতা পুরভোটের আগে মহিলা প্রার্থী খুঁজতে সমস্যায় তৃণমূলের দুই শিবির। ডিলিমিটেশনের পরে প্রায় ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। মহিলা মুখের সংকট কি প্রভাব ফেলবে ভোটের লড়াইয়ে?

শিয়রে কলকাতা পুরভোট। ডিলিমিটেশনের পরে প্রায় ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এবার পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মহিলা মুখ খোঁজা৷ সূত্রের খবর, এ নিয়ে নাকি সমস্যায় পড়েছে তৃণমূলের দুই শিবিরই। একটা সময়ে যে সব মহিলা মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে থাকত তাদের অধিকাংশই অন্য শিবিরে। কলকাতা পুরসভায় যে সব পরিচিত মহিলা মুখ ছিল তারা অনেকেই এখন অন্য শিবিরে। অনেকে আবার এই নির্বাচনে লড়াইয়ের জায়গায় নেই। প্রশ্ন রয়েছে দুই শিবিরের অন্দরেই। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের ভরসা ছিল মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক।

২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মহিলাদের পাশে আছি এই বার্তা দিতে নানা প্রকল্প আনা হয়। ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প এনে বিরোধীদের থেকে মহিলা মন ঘোরাতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। যদিও ২০২৬ সালের ভোটের লড়াইয়ে সেই মহিলা মুখের গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগাতে পারেনি তৃণমূল।ভোটের ফল প্রকাশের পরে সাংগঠনিক ভাবে দো-টানায় তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাটের দলীয় কর্মসূচিতে হাতেগোনা কয়েকজন মুখ ছাড়া কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। আবার ডেমোক্র্যাটিক শিবির ২১’শে জুলাই-২৮ আগস্ট যে কর্মসূচি করেছে তাতে শহরের মুখ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।

কলকাতা পুরসভায় যে সব মহিলা মুখ এতদিন দেখা যেত তারা অনেকেই অবশ্য নিজেদের পরিকল্পনা গোপন রেখেছেন। ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের অবশ্য দাবি, যে সব মহিলা তৃণমূল কর্মীরা ছিলেন তারা অনেকেই বিরক্ত। দল বেচে দেওয়ার অভিযোগ তাদের, যে কারণে মহিলা মুখ তৃণমূলে নেই।

একসময় পুরভোট এলে তৃণমূলের যাঁরা নির্বাচনে লড়াই জন্য রীতিমতো নেতা ও নেত্রীর বাড়িতে ঘনঘন আসতেন, তাঁদের অধিকাংশই এবার সদলবলে উলটোমুখী। হয় তাঁরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তহবিলের অভাবের অজুহাতে নির্বাচনে লড়তে চাইছেন না, নয়তো বর্তমান শাসকদল বিজেপির টিকিট পেতে গোপনে নানা সূত্র ধরার চেষ্টা করছেন! প্রাথমিক তথ্য, ২০২১ সালের ভোটে জয়ী তৃণমূলের ১৩৭ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ জনও মমতা শিবিরের হয়ে ভোটে লড়ার আগ্রহ দেখাননি। এবার প্রার্থী হলে অর্থ ও অন্যান্য বিষয়ে নিজের ‘কোমরের জোরে’ লড়তে হবে বলে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের অনেককে নির্বাচনী আসর থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি নেতৃত্বের। তবে বর্তমানে প্রেক্ষাপটে ‘পার্টি দরদী’রা এবার পুরভোটে আগের মতো আর অর্থ সাহায্য করবেন না, এটাও ভোটে না লড়ার অন্যতম ‘ফ্যাক্টর’ বলে স্বীকার করছেন বিদায়ী কাউন্সিলররা।

‘মমতা তৃণমূলে’র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “ক্ষমতার সঙ্গে থাকার প্রবণতায় অনেক প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পেতে চাইছেন। আবার কিছু প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির হামলা ও পুলিশি হেনস্তার ভয়ে পুরভোট থেকে দূরে থাকতে চাইছেন।” তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যের সর্বত্রই নানা ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠরা ইতিমধ্যে বিজেপির হয়ে ‘জনকল্যান শিবিরে’র মতো নানা সরকারি কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়েছেন।

কালীঘাট শিবির অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। মহিলা মুখ প্রশ্নে তাদের বক্তব্য, যাঁরা কাজ করতেন, কিন্তু সুযোগ পেতেন না। তাদের খুঁজে এনেই প্রার্থী করা হবে। তবে মহিলা মুখ নিয়ে সত্যিই তারা ভোট ময়দানে নামতে পারবেন কি না! তা নিয়ে সংশয় উভয় শিবিরেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed