হলদিয়ায় ফেনল কারখানা উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
দেশের সবচেয়ে বড় ফেনল প্লান্ট হলদিয়ায়। ছ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠছে প্লান্টটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকার আজ এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন। পুজোর পূর্বেই শিল্পের জোয়ার আসতে চলেছে বাংলায়। ফেনল মূলত ফার্মাসিটিক্যালস, মেডিসিন, ইলেকট্রনিক, রং বা পেইন্ট তৈরিতে ব্যবহার হয়। এই কারখানা গড়ে উঠলে আমদানি কমবে, রপ্তানি বাড়বে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা ।

শিল্পশহর হলদিয়ার মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে। ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার পথচলা শুরু হল বুধবার।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কারখানার উদ্বোধন করেন। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই প্রকল্প গড়ে তুলেছে। ভারতের পূর্ব উপকূলে এটিই প্রথম ফেনল উৎপাদনকারী কারখানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপের (টিসিজি) চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, এইচপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিইও নবনীত নারায়ণ এবং অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও সঞ্জীব বাসুদেবা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং প্রথম সারির শিল্পকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নতুন কারখানাটিতে বছরে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লক্ষ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদন করা যাবে। এক ছাদের নীচে এত বিপুল পরিমাণে এই দুই রাসায়নিক উৎপাদনের নজির দেশে এই প্রথম। হলদিয়ায় এইচপিএল-এর বর্তমান পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের মধ্যেই কারখানাটি তৈরি হয়েছে। ফেনল ও অ্যাসিটোন তৈরির প্রধান কাঁচামাল প্রোপিলিন এবং বেঞ্জিন। পাশের এইচপিএল কারখানা থেকেই সরাসরি এই দুই কাঁচামাল পাবে অ্যাডপার্মা। ফলে প্রাথমিক কাঁচামাল থেকে চূড়ান্ত রাসায়নিক উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটিই হলদিয়ায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

দেশের বাজারে ফেনল ও অ্যাসিটোনের চাহিদা বরাবরই বেশি। কিন্তু দেশে উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় এত দিন বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে এই দুই রাসায়নিক আমদানি করতে হতো। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাবও পড়ত ভারতীয় সংস্থাগুলির উপর। হলদিয়ার নতুন কারখানা চালু হওয়ায় আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় ক্রেতারা আরও নির্ভরযোগ্যভাবে এই দুই রাসায়নিক পেতে পারবেন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল দামে সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।