পুরভোটে আপনিও হতে পারেন BJP প্রার্থী, উপায় বলে দিলেন সুকান্ত
পুরসভায় BJP প্রার্থী হতে আগ্রহীদের জন্য দারুণ সুযোগ। BJP-র দফতরে রাখা ড্রপ বক্সে বায়োডেটা ফেললেই মিলতে পারে টিকিট। কীভাবে দেওয়া হবে টিকিট? কাদের অগ্রাধিকার মিলবে? জানিয়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

পুরভোটে BJP প্রার্থী হতে চান? অ্যাপ্লাই করতে পারেন BJP-র দফতরে। শনিবার এমনটাই জানিয়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই শীর্ষনেতা একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন, কখন-কীভাবে আবেদন করা যাবে প্রার্থী হওয়ার জন্য।

পুরভোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সমাজের বিশিষ্ট মানুষ, যাঁরা পুরভোটে লড়তে ইচ্ছুক, তাদের জন্য দরজা খোলা থাকবে। তবে, দলের কার্যকর্তা ও কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখবে বিজেপি।পুরভোটে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের জন্য এবার সময়সীমা বেঁধে দিল বিজেপি।

কালীপুজোর পরই অর্থাৎ নভেম্বরের শেষের দিকে রাজ্যে পুরভোটের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরভোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে সব দলই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এবার পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য সমাজের বিশিষ্টদের আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার । একইসঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন।

সুকান্ত জানিয়েছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত BJP-র টিকিটে পুরভোটে লড়াই করার জন্য আবেদন করা যাবে। নিজের বায়োডেটা জমা করতে হবে BJP দফতরের ড্রপ বক্সে। এরপর শুরু হবে ঝাড়াই বাছাই। বায়োডেটা দেখে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইমেজ বিবেচনা করে তবেই তাঁকে টিকিট দেওয়ার বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবে গেরুয়া শিবির।

পুরভোটে কি NCPI-এর সঙ্গে জোট বাঁধবে BJP? এই সম্ভাবনা খারিজ করে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। সুকান্ত বলেছেন, ‘২০৯টি আসনেই BJP একক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৯টি আসনের প্রত্যেকটির জন্য টিকিটের আবেদন করছেন প্রায় ১০ জন করে। ফলে আমরা এখন শাসকদল, আমাদের সঙ্গে তো অন্যরা জোট করতে চাইবেই। অনেকেই আসতে চায়। তবে আমরা একাই লড়ব।’

তবে প্রার্থী বাছাই হবে ড্রপ বক্সে পাওয়া বায়োডেটা থেকেই, জানিয়ে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘পার্টির নিচুতলার কর্মী, যাদের অন্য জায়গায় সুযোগ হয়নি তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করব টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে। সমাজের বিশিষ্টজনেদের নামও আমরা বিবেচনা করব।’ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপির যারা পুরনো কার্যকর্তা, যারাই ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে ছিলেন, তাদের বিশেষ গুরুত্ব। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই হয় না।”

তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও মুখ খোলেন সুকান্ত। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের লোকজন আমাদের হয়ে টিকিট পাচ্ছে, এই বিষয়টা আমরা শুনিনি। বরং আমি যেটা শুনেছি, একটা উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে আছে। পার্টির নিচুতলার কর্মীরা কিন্তু এই বিষয়টাকে খুব একটা ভাল ভাবে নিচ্ছেন না।’

পুরভোটে জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত সুকান্ত মজুমদার। তার দাবি, কলকাতা পুরসভা এবার BJP-র মেয়র পাচ্ছেই। তবে কলকাতার কোনও এলাকায় BJP-র লড়াই কঠিন তা নিয়ে সুকান্ত বলেন, ‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি রাজনীতিতে কোনও লড়াই-ই সহজ হয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যের পুরনো নেতাদের মধ্যে একজন। তার এলাকায় লড়াইটা সহজ হবে না। তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ওঁকে বিধানসভা ভোটে হারিয়েছেন, আমরাও পুরসভা ভোটে ভবানীপুরে মমতা তৃণমূলকে হারাব।’

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর দ্রুত প্রার্থী তালিকা প্রকাশেরও পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ভোট ঘোষণার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারবে দল। সব মিলিয়ে, পুরভোটের আগে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি।