রোগী ফেরানো বন্ধ! সরকারি শয্যা না মিললে বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা
রোগী ফেরানো বন্ধ। কলকাতার সরকারি হাসপাতালে শয্যা না মিললে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা। কলকাতার সরকারি মেডিক্যাল কলেজে শয্যা না পাওয়া সংকটাপন্ন রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বাস্থ্য ভবনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানাল স্বাস্থ্য দফতর । তবে পরিষেবাটি কেবল অনুমোদিত রেফারালের মাধ্যমে মিলবে ।

কলকাতার সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শয্যা না থাকলে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নতুন রেফারাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। শহর ও শহরতলির কয়েকটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। রোগীদের নিয়ে আর এক সরকারি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়াতে হবে না।

কলকাতার ভিড়ে ঠাসা সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক রোগীর শয্যা মিলছে না? কোনো চিন্তা নেই, সংশ্লিষ্ট রোগীকে বিনামূল্যে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেবে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির জরুরি বিভাগে শয্যা সংকট মেটাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপে এই নতুন রেফারাল ও এমার্জেন্সি ব্যবস্থা চালু করা হলো।

স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর ‘স্বাস্থ্য ভবন’-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সরাসরি নজরদারিতে এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থা প্রাথমিক চিকিৎসায় স্থিতিশীল করার পর স্বাস্থ্য দফতরের নিজস্ব পরিবহনে বিনামূল্যে তাঁকে চিহ্নিত বেসরকারি ‘সিস্টার হাসপাতালে’ স্থানান্তরিত করা হবে।

নতুন নিয়মে কোনও সংকটাপন্ন রোগী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করবেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শয্যা না থাকলে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য ভবনের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুমে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। নিয়ন্ত্রণকক্ষ নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে শয্যার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবে। প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চিকিৎসা ও পরিবহণের জন্য রোগীর পরিবারকে সরাসরি অর্থ দিতে হবে না।

এসএসকেএম–কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ জুটিকে দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। আগস্টে এসএসকেএম থেকে তিন রোগীকে কেপিসিতে পাঠিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানানো হয়। রাজ্য সরকার বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২,৪২৬টি শয্যা এই উদ্যোগের জন্য চিহ্নিত করেছে বলেও সেই সময় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছিল।

বর্তমান পরিকল্পনায় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ কলকাতা, আরজি কর এবং সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করার কথা রয়েছে। এনআরএস–অ্যাপোলো সংযোগের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এমনটাই সূত্রের খবর । তবে ২ অক্টোবর বেসরকারি হাসপাতালগুলির একাংশ অর্থপ্রদান, শয্যার নিশ্চয়তা এবং রোগী ভর্তি রাখার সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত নির্দেশিকা চেয়েছে।