আলুচাষিদের জন্য বড় সুখবর, কৃষকরা পাবেন বছরে ৯ হাজার! হুগলিতে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারি সিদ্ধান্তে রাজ্যের আলুচাষিরা যে সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা দূর করতে চায় বিজেপি। হুগলির পুরশুড়ায় কৃষক সম্মাননিধি প্রকল্পের সূচনা করতে গিয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলুচাষিদের জন্য ভর্তুকি-সহ একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে পূর্বতন সরকারের কোন সিদ্ধান্তে চাষিদের কত ক্ষতি হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেছেন। বাজারে আলুর দাম কমে গেলেও চাষিদের চিন্তা নেই, গাড়ির খরচ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়ায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আলুচাষিদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। আলুর গাড়ি সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে আলুচাষিদের বিপন্ন করা হয়েছে।”

খরচ বাড়ে, কিন্তু দাম মেলে না। বস্তায় বস্তায় বিপুল ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আলুচাষিদের । চাষ থেকে গাড়ির ভাড়া, যা খরচ হয়, তাতে লাভের মুখ দেখতে পাননা বলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আলু রফতানি আটকে যাওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ হন কৃষকরা। অনেক আশা নিয়ে নতুন সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার হুগলি জেলায় গিয়ে সেই আলুচাষিদের জন্য একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা ভর্তুকি আলুচাষিদের, সীমানায় গাড়ি আটকাবে না কেউ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আলুচাষিদের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ।

আগের সরকার ভিন্রাজ্যে আলু বিক্রি করতে বাধা দিত বলে অভিযোগ। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এখন থেকে ভিন্রাজ্যে আলু নিয়ে যেতে হলে আর চাষীদের সীমানায় কেউ আটকাবে না। তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়া হল এবং সীমানায় আলু বোঝাই কোনও গাড়ি আটকানো হবে না। সড়ক বা রেলপথের মাধ্যমে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ভাড়ায় ৫০ টাকা সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার হুগলিতে ‘কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “মাত্র ছয় মাসের নতুন রাজ্য সরকার সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। পিএম কিষান নিধি প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর প্রাপ্ত ৬ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার ফলে রাজ্যের ৪৬ লক্ষের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।”তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ৬ হাজার টাকার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা যুক্ত করে কৃষকদের মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

কৃষি উৎপাদন ও ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষকদের সুবিধা দিতে একাধিক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি মান্ডিতে ধান দিলে কৃষকরা প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে বোনাস পাবেন এবং ধাপে ধাপে ধানের দাম বাড়িয়ে ৩ হাজার ১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল করা হবে। আবাসন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “রাজ্যে ইতিমধ্যে আবাস যোজনার ২০ লক্ষ বাড়ির প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যে কোনও কাঁচা বা ছাদহীন বাড়ি থাকবে না।” পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আলুচাষিদের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়া হল এবং সীমানায় আলু বোঝাই কোনও গাড়ি আটকানো হবে না। সড়ক বা রেলপথের মাধ্যমে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ভাড়ায় ৫০ টাকা সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে। আলুচাষিদের ১ হাজার ১২০ টাকার ফ্রি বন্ড দেওয়া হবে এবং বাজারে আলুর দাম কমে গেলে চাষিদের যে ক্ষতি হবে, সেই ঘাটতি টাকা সরকার ভর্তুকি হিসেবে মিটিয়ে দেবে।

এছাড়া, আলু সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে ৫০টি কৃষক মান্ডিতে সৌরশক্তি চালিত আধুনিক হিমঘর তৈরিতে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বিমা যোজনার আওতায় আনা হবে আলু চাষকে। ফলে, আলুর জন্য কৃষকদের বিমা দিতে হবে না। ওই টাকা সরকারই দিয়ে দেবে।

বিগত সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি এও জানান যে, গত ১০ বছর ধরে হাসপাতাল ও অঙ্গনওয়াড়িতে খাবার খরচের হার বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার এসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র, অমৃত মিশন, ন্যাশনাল হেলথ মিশন এবং আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর বিনামূল্যে বিজলি যোজনা’-য় সবাইকে দ্রুত আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী দিনে জনগণের স্বার্থে এই সরকার আরও বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।