বিজেপি বিধায়কের নাম ভাঁড়িয়ে দুর্গাপুজোর চাঁদার নামে জুলুমবাজি
কোলাঘাট- শতদল সংস্থা নাম দিয়ে এ বছরই কোলাঘাটের দেউলিয়াতে দুর্গাপুজোর খুঁটি পূজোর সূচনা হয়েছিল কিছুদিন আগেই। খুঁটি পূজোতে পূর্ব পাঁশকুড়ার বিধায়কসহ কোলাঘাট ব্লকের বিডিও এমনকি পুলিশ অফিসাররাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে পালা পরিবর্তনের পরেই উৎসাহী কিছু যুবকেরা এই পূজোর প্রথম সূচনা করার পরিকল্পনা করেন।

তবে প্রথম বছরই তাল কাটলো পুজোর। প্রথম বছরই দেউলিয়া বাজার থেকে শুরু করে বড়দাবাড়,পদুমপুর সহ একাধিক জায়গায় জাতীয় সড়কের পাশে দোকানদারদের উপর মোটা অংকের চাঁদার রাসিদ কেটে রীতিমতো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলো শতদল পুজোকমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দু’শো পাঁচশো টাকা থেকে শুরু করে পঁচিশ হাজার টাকা পর্য়ন্ত ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ । হাতেহাতে টাকা না দিলে যেন পার্টি অফিসে গিয়ে টাকা দিয়ে আসে,এমনই গুরতর অভিযোগ তুললো কোলাঘাট থেকে বড়দাবাড় এলাকার ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অসংখ্য ব্যবসায়ীরা। কারোর ৫০০ টাকা, কেউ দিনআনা দিন খাওয়া ছোট দোকানদার তাদের ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা চাঁদা কেটে যায় পুজো উদ্যোক্তারা।

পদুমপুর গ্রামে এক বস্তা ব্যবসায়ী ফারক দত্তকে ২৫ হাজার টাকার চাঁদা কেটে যান। আবার বড়দাবাড়ের মা শীতলা হোটেলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা কেটে যান তারা । আবার বড়দাবাড় গ্রামে টায়ার সারাই দোকানে সেক মুরসেদকে ৩০০০ টাকা চাঁদা কাটে পুজো উদ্যোক্তারা এমনটাই অভিযোগ। এরকম অসংখ্য ব্যবসায়ীদের রীতিমতো হুমকি দিয়ে দদর্গাপুজোর চাঁদার রসিদ কাটা হয় রবিবার ২০শে সেপ্টেম্বর । এরুপ ঘটনার জেরে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোলাঘাট এলাকায় । যদিও এই শতদল সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে চাঁদার বিলে নাম রয়েছে এলাকার বিধায়ক সুব্রত মাইতির। তবে এই ঘটনা জানার পরই বিধায়ক সুব্রত মাইতি সাফ জানান,এ বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র জানিনা। পুজো উদ্যোক্তারা যা করেছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য জনক। আমি কোনভাবেই এরকম অন্যায় বর্দাস্ত করবোনা।

তিনি বলেন কোলাঘাট এলাকায় বহু জায়গায় সভাপতি বা বিভিন্ন পদে নিযুক্ত থাকা পাশাপাশি বিধায়ক থাকার কারণে পুজো কমিটি তার নাম রেখেছে । আমার নাম করে কেউ যদি টাকা চায় তাহলে কোনভাবেই কেউ যেন টাকা না দেন এমনই আবেদন করেন বিধায়ক। পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমে সাফ জানান,আমি কোন পুজো কমিটির কোন পদেই নেই।

তবে শতদল সংস্থার এই জোরজুলুমের ঘটনায় কোলাঘাট মন্ডল ৪ এর সভাপতি বোধন দে বলেন,কিছু হঠাৎ যোগদানকারী বিজেপি কর্মী তারা বিজেপি দলের নাম ভাঙিয়ে দলের নাম খারাাপ করছে।এটা কোনভাবেই বর্দাস্ত করবো না। এবিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত এবং জেলাশাসক দফতরে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোলাঘাট থানায় অভিযোগও জানানো হয় এই বিষয়ে। বোধন বাবু বলেন,পার্টির নাম ভাঙিয়ে যারা এই দুষ্কর্ম করছে তাদের শাস্তি চাই। যদিও এই বিষয়ে পুজো কমিটির তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ।