সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 26
মোট ভিজিটর 532

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায় ধস! বন্ধ আড়াই লক্ষ দোকান, লোকসান ১১ হাজার কোটি! দাবি করল বণিকসভা, ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন

0
F

রবিবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশের জেরে বন্ধ আড়াই লক্ষ দোকান। ফলে লোকসান ১১ হাজার কোটি! দাবি করল বণিকসভা। রাহুল গাঁধীর দাবি, বিজেপি-ই জোর করে দোকানপাট বন্ধ করিয়েছে। আবার ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ‘কর্ণপাত না করার’ জন্য বিরোধী নেতৃত্বের সমালোচনা করেন অমিত শাহও।

দীপাবলির আগে শেষ রবিবার ছিল ১ নভেম্বর। সেই দিনেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির জেরে দিল্লির বহু দোকান বন্ধ রাখতে হয়। দিল্লির বণিকসভার দাবি, বিরোধীদের সমাবেশের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার এলাকার প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ ছিল রবিবার। তার জেরে ব্যবসায়ীদের ১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বার এই লোকসান কারা পুষিয়ে দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বণিকসভা।

গত রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল দিল্লির বণিকমহলের। উৎসবের মরসুম মিটে যাওয়ার পরে যাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, সেই অনুরোধ জানিয়েছিল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। দীপাবলির মুখে কেনাকাটির ভরা মরসুমে ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী-সহ বিরোধী নেতৃত্বদের একাধিক চিঠিও পাঠিয়েছিল তারা। ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিয়ে চাপানউতরের মাঝেই রবিবার রামলীলায় সমাবেশ করে ‘ইন্ডিয়া’। ব্যবসায় ক্ষতির জন্য বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন রাহুল। কংগ্রেস নেতার দাবি, বিজেপি-ই জোর করে দোকানপাট বন্ধ করিয়েছে। আবার ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ‘কর্ণপাত না করার’ জন্য বিরোধী নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

এই রাজনৈতিক আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণের মাঝে এ বার ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বণিকসভার চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়ল জানান, রামলীলা ময়দানের সমাবেশের ফলে আশপাশের প্রায় ২০-২৫টি বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সব এলাকায় প্রায় তিন লক্ষ দোকান রয়েছে। বিভিন্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বণিকসভা জানতে পারে, ওই এলাকাগুলিতে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকানই (যা বাজারগুলিতে থাকা মোট দোকানের প্রায় ৮০ শতাংশ) বন্ধ ছিল।

বণিকসভার তরফে এক সদস্যের বিবৃতি অনুযায়ী, “রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।” এই তালিকায় কাশ্মীরি গেট, মোরি গেট, চাঁদনি চক, চাউরি বাজার, খারি বাওলি, নয়া বাজার, সদর বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, ফতেহপুরি, তিলক বাজার, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, করোল বাগ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকার বহু দোকানপাট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দীপাবলির ভরা মরসুমে এই বাজারগুলি মিলিয়ে দিল্লিতে প্রায় ১০-১২ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা হয় বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে বণিকসভা। তাদের বক্তব্য, বেশির ভাগ দোকান বন্ধ ছিল। অবশিষ্ট যে দোকানগুলি খোলা ছিল, সেখানেও বিক্রিবাট্টা প্রায় কিছুই হয়নি। ব্যবসায় প্রায় ১১ হাজার টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে ব্রিজেশের প্রশ্ন, “এখন এর ক্ষতিপূরণ কে করবে? লোকসানের টাকা কি আয়োজকেরা পুষিয়ে দেবেন?”

এ ছাড়া যাঁরা রাজধানীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে কেনাকেটা বা পণ্য সরবরাহের জন্য দিল্লিতে আসেন, তাঁরাও সমাবেশের কারণে সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি সংগঠনের। তাদের দাবি, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা প্রতিদিন দিল্লিতে যাতায়াত করেন, এমন প্রায় তিন-চার লক্ষ মানুষ রবিবার দিল্লিতে যেতে পারেননি। যে ট্রাক এবং টেম্পোগুলি পুরাতন দিল্লি এবং মধ্য দিল্লি এলাকার বাজারে পণ্য সরবরাহ করে, সেগুলির মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার গাড়ি পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি বলে দাবি ব্রিজেশের।

উল্লেখ্য, সমাবেশের আগের রাতেই এক ভিডিয়োবার্তায় রাহুল দাবি করেছিলেন, তাঁদের কর্মসূচির জন্য ব্যবসায়ীদের কোনও ক্ষতি হবে না। সমাবেশে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পাশাপাশি কেনাকাটি করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রবিবার হুডখোলা জিপে রামলীলার উদ্দেশে যাওয়ার পথেও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নিয়ে ফের মুখ খোলেন রাহুল। একই সঙ্গে তোপ দাগেন বিজেপি-কেও। বলেন, “আমরা প্রত্যেককে বলেছি যে, যখন আপনারা সভায় আসবেন, তখন কিছু কেনাকাটা করবেন। কিন্তু যখন আমরা কনট প্লেসে এলাম, দেখলাম যে, বিজেপি প্রতিটি দোকান জোর করে বন্ধ করছে। সুতরাং, আপনাদের জানা উচিত, কারা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছে আর কী ভাবে এটা হচ্ছে।”

দিল্লির ব্যবসায়ীদের অনুরোধ না-রাখার জন্য রাহুলদের পাল্টা দেন শাহও। ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা টেনে বলেছিলেন, “সারা বছরের মধ্যে একটি দিন বা একটি সপ্তাহ এমন থাকে, যে সময়টায় ব্যবসা ভাল চলে। এই তিন-চার দিনে ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। দীপাবলির কেনাকাটা করতে পুরো উত্তর ভারত থেকে মানুষ দিল্লির পাইকারি বাজারে আসে।” সেই দীপাবলির আগের শেষ রবিবার ব্যবসায়ীদের উদ্বেগকে ‘গুরুত্ব না দিয়ে’ সমাবেশ করার জন্য রাহুলদের একহাত নেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed