শ্বাসের রোগে উদ্বেগ বাড়ছে কলকাতায়
কলকাতার কয়েকটি হাসপাতালে ফুসফুসের রোগে ভর্তি ৬–১০% বেশি, বাড়ছে উদ্বেগ।কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল গত বছরের তুলনায় ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বর্ষাকাল, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপ এবং আগে থেকে থাকা শ্বাসনালির সমস্যা পরিস্থিতি জটিল করছে।

কলকাতার কয়েকটি হাসপাতালে ফুসফুসের রোগ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং সিওপিডির তীব্রতা নিয়ে রোগী আসার প্রবণতা বজায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারায়ণা আরএন টেগোর হাসপাতালের চিকিৎসক গত বছরের তুলনায় ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি প্রায় ৬–৭ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। চার্নক হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রায় ৮–১০ শতাংশ এবং জুনে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অন্যদিকে, সিএমআরআই হাসপাতাল গত বছরের তুলনায় ফুসফুসের রোগী প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিপি পোদ্দার হাসপাতাল তাদের চেস্ট ক্লিনিকের বহির্বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ রোগী বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। হাসপাতালভেদে এই পার্থক্য রোগীর ধরন, শয্যাসংখ্যা এবং চিকিৎসা পরিষেবার পরিধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, অনেক রোগীর সাধারণ সর্দি-কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া কিংবা হাঁপানি ও সিওপিডির তীব্র সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অক্সিজেন বা আইসিইউ সহায়তারও প্রয়োজন হচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে শহরে দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি নাক দিয়ে জল পড়া ও চোখ দিয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গযুক্ত ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর কথাও জানানো হয়েছিল।

তবে ৬–১০ শতাংশ বৃদ্ধিকে কলকাতার সমস্ত হাসপাতালের সম্মিলিত সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সংখ্যাগুলি কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনিক সূত্রের দেওয়া হিসাব। স্বাস্থ্য দফতরের কোনও শহরব্যাপী যাচাইকৃত তথ্য বা অন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন সমীক্ষা এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রযোজ্য টিকা নেওয়ার কথা বলেছেন। দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুক ভার হওয়া, জ্বর কিংবা অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।