কলকাতা বিমানবন্দরে ₹৩৩৭ কোটির অ্যাপ্রন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
কলকাতা বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালের দক্ষিণ দিকে অ্যাপ্রন সম্প্রসারণের জন্য ₹৩৩৭.১৪ কোটির টেন্ডার ডাকা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমান রাখার জায়গা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষমতা বাড়বে। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকাঠামো সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা AAI। আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ দিকে অ্যাপ্রন সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রায় ₹৩৩৭.১৪ কোটি মূল্যের টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে।

‘অ্যাপ্রন’ বলতে বিমানবন্দরের সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে যাত্রীবাহী বিমান দাঁড় করানো, যাত্রী ও পণ্য ওঠানো-নামানো, জ্বালানি ভরা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করা হয়। ফলে অ্যাপ্রন বড় হলে একই সময়ে আরও বিমান ও পরিষেবা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশিত টেন্ডার-তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ₹৩৩৭.১৪ কোটি। টেন্ডারটি ১৪ আগস্ট প্রকাশিত হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলার প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কাজের সম্ভাব্য মেয়াদ ১,০৫০ দিন বা প্রায় ৩৫ মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সময়সীমা কার্যাদেশ ও চুক্তির শর্তের উপর নির্ভরশীল।
বিমানবন্দরে যাত্রী ও উড়ানের চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে বিমান রাখার বে-এর সংখ্যা ৭৩ থেকে ১৩২ করার লক্ষ্য রয়েছে। বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতাও ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত কাজ একই প্রকল্পের অন্তর্গত কি না, তা উপলব্ধ টেন্ডার-নথিতে সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়।

এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত অ্যাপ্রন সম্প্রসারণের বরাত চূড়ান্তভাবে কোন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে, নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে অথবা বর্তমান টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিক কতটি নতুন পার্কিং বে তৈরি হবে—সেই তথ্য নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাই প্রকল্পটিকে এখনই চালু নির্মাণকাজ না বলে টেন্ডার ও পরিকল্পনা পর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ। প্রকল্পটি নির্ধারিতভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমান রাখার জায়গা, পরিষেবা পরিচালনা এবং ব্যস্ত সময়ে উড়ান ব্যবস্থাপনায় কলকাতা বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়তে পারে।