সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 16
মোট ভিজিটর 522

‘এই দিনটি আপনাদের’: জিওর সাফল্যের কৃতিত্ব কর্মী ও টেকনিশিয়ানদের দিলেন অনন্ত আম্বানি

0
F

অনন্ত আম্বানি বলেছেন, কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম এখন সাফল্যের ফল দিচ্ছে। এই তালিকাভুক্তি তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি বুধবার সংস্থার শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত তালিকাভুক্তি বা লিস্টিংয়ের সাফল্য কর্মী ও অংশীদারদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। ডিজিটাল সংযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখার জন্য নেপথ্যে থেকে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি।

২৮ অক্টোবর মুম্বইয়ে জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডের লিস্টিংয়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনন্ত বলেন, “জিও পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের উদ্দেশে বলতে চাই—মাঠপর্যায়ের কর্মী, সেই টেকনিশিয়ানরা যাঁরা বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও টেলিকম টাওয়ারে উঠেছেন, ইঞ্জিনিয়ার, পরিষেবা কর্মী, স্টোরের কর্মী, আমাদের রিটেল পার্টনার এবং তাঁদের পরিবারের প্রত্যেককে। আজ জিও যা কিছু, তা আপনাদের সকলের জন্যই। এই দিনটি আপনাদের। আপনাদের পরিশ্রম আজ সার্থক হচ্ছে এবং তার ফল মিলছে।”

তিনি আরও বলেন, কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম এখন সাফল্যের ফল দিচ্ছে। এই তালিকাভুক্তি তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ। অনন্ত আম্বানি এদিন বিশেষভাবে জিওর কর্মী ও প্রযুক্তিবিদদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে সেই কর্মীরাও রয়েছেন, যাঁরা টেলিকম টাওয়ারে উঠে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কাজ করে সংস্থার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন ও তা সচল রেখেছেন।তাঁর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য শুধু প্রযুক্তিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ইঞ্জিনিয়ার, পরিষেবা কর্মী, স্টোরের কর্মী, রিটেল পার্টনার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও স্বীকৃতি জানান।

শেয়ার বাজারে যাত্রা শুরু হলো জিয়োর। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের মানুষের অবদানের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির চোখেও তখন জল। জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-র লিস্টিং অনুষ্ঠানের সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে জিয়োর লিস্টিং অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে অনন্তের বক্তব্যে। এ দিন তিনি বলেছেন, ‘আজ আমার কাছে একটাই শব্দ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— কৃতজ্ঞতা। যাঁরা জিয়োর উপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং এই দিনটিকে সম্ভব করেছেন, সেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে ধন্যবাদ।’

লিস্টিংয়ের ঘণ্টাধ্বনিকে মন্দিরের ঘণ্টার সঙ্গে তুলনা করে অনন্ত বলেছেন,’আজ এক্সচেঞ্জের ঘণ্টা আমার কাছে মন্দিরের ঘণ্টার মতো বাজবে। কারণ আমার কাছে ব্যবসা হলো পুজো। আর প্রত্যেক পুজোর শেষে প্রসাদ দেওয়া হয়। সেই প্রসাদ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়। আজ জিয়োকে ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।’

ব্যবসার সাফল্যের প্রসঙ্গে উঠে আসে পরিবারের অবদানও। এ নিয়ে অনন্ত বলেছেন, ’আমার দাদুর স্বপ্ন, ঠাকুমার আশীর্বাদ, বাবার দিশা এবং মায়ের যত্ন আমাদের বিনয়ী থাকতে শিখিয়েছে।’ জিয়োর কর্মীদের অবদানের কথাও ভোলেননি তিনি। বৃষ্টি-রোদে টাওয়ারে কাজ করা কর্মী, প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, পরিষেবা কর্মী, স্টোরের কর্মী এবং ব্যবসায়িক সহযোগীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা,’এই দিনটা আপনাদের।

জিয়োকে দেশের মানুষের তৈরি সংস্থা বলেই তুলে ধরেন অনন্ত। তাঁর কথায়,’জিয়ো আপনারা তৈরি করেছেন। আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের স্বপ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জিয়োকে গোটা দেশ আশীর্বাদ করেছে।’ মায়ের ‘জিয়ো মেরে লাল’, ঠাকুমার ‘যুগ যুগ জিয়ো’ এবং বন্ধুদের ‘জিয়ো ইয়ার’— এই তিনটি অভিব্যক্তির কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

এই বক্তব্যে শুধু একটি সংস্থার বাজারে প্রবেশের উদ্‌যাপন ছিল না। ছিল পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্বপ্ন, কর্মীদের পরিশ্রম এবং জিয়োর সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed