সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 16
মোট ভিজিটর 522

লক্ষ্মীপুজোর বাজারে জিনিসের দামের পারদ তুঙ্গে

0
F

এবারও লক্ষ্মীপুজোর বাজারে ‘অলক্ষ্মী’র ছায়া! পুজোর উপকরণ থেকে আনাজপাতির আকাশছোঁয়া দাম। উত্তরের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোতে প্রায় একই ছবি। ব্যাগভরে বাজার করার সাধ থাকলেও পূরণের উপায় নেই। অগত্যা আয়োজনে কাটছাঁট করে কোজাগরী পূর্ণিমায় ঐশ্বর্যের দেবীর আরাধনার আয়োজন চলছে উত্তরের ঘরে ঘরে।

শুক্রবার থেকে বিভিন্ন বাজারে যেন দর কষাকষির কুস্তি শুরু হয়েছে। তাতেও যে খুব একটা লাভ হচ্ছে তেমন নয়। অনেক ঠেলেও দামের পারদ নীচে নামাতে পারছেন না বিধ্বস্ত ক্রেতাদের কেউ। দেবীর আসনের পাশে গোছা ধরা ধানের শিষ রাখার কথা বাধ্য হয়েই ভুলতে হচ্ছে অনেককে। একটি ধানের শিষ বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকা দামে। পাঁচ গ্রাম ওজনের পঞ্চ শস্যের প্যাকেটের দাম চড়েছে ২০ টাকায়। সরু ফিলফিলে কাগজের মালার দাম ২৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে চাঁদমালা।

আলপনার ছোট্ট এক টুকরো খড়িমাটির দাম ১০ টাকা। লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের একটি স্টিকার ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায় বিকোচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শনিবার বাজার আরও চড়বে। শুক্রবার দুটি সলতে সহ মাটির প্রদীপের দাম ছিল ১০ টাকা। ঘট ২০ টাকা, ছোট ডাব ২৫ টাকা, একটি আখ ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিকিয়েছে।

কিন্তু এবার পুজোর সামগ্রীর কেন এত দাম? বিক্রেতা সূত্রের খবর “বৃষ্টির জন্য এবার উত্তরবঙ্গে সবজি চাষ হয়নি বললে চলে। সবই বাইরে থেকে আসছে। জোগান অনেক কম। তাই প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে।” কিন্তু ওই পর্যন্ত সামলে নিলেও ঐশ্বর্যয়ের দেবী আরাধনায় খিচুরি ভোগ আয়োজনের রীতি ধরে রাখতে গিয়ে মাথা চক্কর কাটছে অনেকের। কেন এমনটা হবেনা? বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, পটল, মূলো, গাজর, সিম, ঝিঙের আকাশ ছোয়া দাম। কাঁচালঙ্কার কেজি ১২০ টাকা। শুক্রবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির বিভিন্ন বাজারে পটল বিকিয়েছে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি দামে। বেগুনের কেজি প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। ফুলকপি ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি। মহার্ঘ সবই।

মহালয়ার আগেও বরবটি ৬০ টাকা কেজি দামে মিলেছে। লক্ষ্মীপুজোর বাজারে সেটাই ৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি শসার দাম চড়েছে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। বাজার ঘুরে পছন্দের সবজি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পছন্দ হলে দাম জিজ্ঞেস করতে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এক ক্রেতা বলেন, “বাজারে সস্তা বলতে একমাত্র আলু। তার বাইরে কিছু কিনতে গেলেই পকেটে টান পড়ছে। ভেবেছিলাম অন্য বছরের মতো খিচুড়ির ব্যবস্থা করব। বুঝতে পারছি না শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়াবে।” কেন এভাবে দাম বাড়ছে? বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “কোনও মান্ডিতে সবজির আমদানি নেই। যতটুকু মিলছে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরো বাজারে দাম বেড়েছে।

কেনাকাটার ফাঁকে এক গৃহবধূ জানান, “সবজি তো বটেই। এবার মালা, প্রদীপ, ঘট কিছুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। উপায় কি। অল্প করে সবই কিনতে হচ্ছে।” জিনিসের দামের পারদ যতই বাড়ুক না কেন কোনও কিছুতেই আটকাবেনা কোজাগরীর আরাধনা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed