সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 21
মোট ভিজিটর 527

শুধু সনাতনীরাই বিসর্জনের সময় প্রতিমা ছুঁতে পারবেন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

0
F

‘সিপি-কে বলেছি নাম-ঠিকানা লিখে রাখতে’, শুধু সনাতনীরাই বিসর্জনের সময় প্রতিমা ছুঁতে পারবেন! জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর এমন নির্দেশের নেপথ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এটি ধর্মীয় আচার ও পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্ন। দুর্গাপূজা একটি উৎসব হলেও এর ধর্মীয় ঐতিহ্যই মুখ্য। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নতুন নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিমা বিসর্জনের সময় শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নতুন নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিমা বিসর্জনের সময় শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার কলকাতার বাবুঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দ এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। বিসর্জনের ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনেই যাবতীয় ব্যবস্থা করতে হবে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হুগলি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় যাঁরা প্রতিমা বহন করবেন, তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। এই বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, বিসর্জনের পবিত্রতা বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথা, শাস্ত্র এবং নিয়ম মেনে চলা জরুরি। দুর্গাপুজো উৎসব হলেও এটি মূলত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিসর্জনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় রীতিনীতির কথা মাথায় রেখে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা নামানোর কাজে ক্রেন ব্যবহারের পরিবর্তে ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নিয়ে আগে অভিযোগ উঠেছিল বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, বিসর্জনের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-কে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং কলকাতা পুরসভা কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ-সহ অন্যান্য সংস্থার সাহায্য নিতে পারবে। ২৪ অক্টোবর বিসর্জন পর্ব শেষ হলে নদীর জল পরিষ্কারের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে ইছামতী নদীতে বিসর্জন দেখতে দেশি নৌকায় যাতায়াত করা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিসর্জনের সময় প্রায় ২০০টি দেশি নৌকায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন এই প্রথা নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় মানুষের আবেগের কথা বিবেচনা করতে হয়েছে। নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং যাত্রীদের ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ নৌকাই ছোট ডিঙি হওয়ায় উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি বলে জানান তিনি।

টাকিতে বিসর্জন ব্যবস্থাপনায় সাহায্যের জন্য বিএসএফকেও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই এলাকায় একজন মন্ত্রীর পাশাপাশি বারাসত রেঞ্জের ডিআইজিকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবুঘাট পরিদর্শনের পর হাওড়ার দিকের বিসর্জন ঘাটগুলির ব্যবস্থাও নৌকায় ঘুরে খতিয়ে দেখেন তিনি।

এদিকে, চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। কলকাতা এবং আশপাশের তিনটি পুলিশ কমিশনারেটে বিসর্জনের নিরাপত্তা তদারকির জন্য মোট ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা বিসর্জন ব্যবস্থাপনার উপর নজর রাখবেন। কলকাতায় ১২ জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে হাওড়ায়, ব্যারাকপুরে চন্দননগর কমিশনারেটে ৬ জন আইপিএসকে মোতায়েন করা হয়েছে বিসর্জন ব্যবস্থাপনার তদারকিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed