সময় লোড হচ্ছে…
আজকের পাঠক 22
মোট ভিজিটর 613

ডুয়ার্সের রানি ফিরল ঘরে! অসমে পাড়ি দেওয়া বাঘিনীকে ফেরানো হল বাংলায়, বাঘিনিকে বক্সায় ফিরিয়ে আনল বন দফতর । স্বস্তি বন দফতরের

0
FF

বাঘিনীর সঙ্গে লুকোচুরি খেলা শেষ! অসমের জঙ্গল থেকে ‘ঘরে’ ফিরছে ডুয়ার্স রানি। বক্সায় ফিরল ডুয়ার্সের রানি, রাজাভাতখাওয়ার ওপেন এনক্লোজারে পর্যবেক্ষণে বাঘিনি ১০ দিনের টানটান উত্তেজনার অবসান! অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গল থেকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করা হল বাংলার প্রথম স্থানান্তরিত বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’ T-138-কে। এবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ঘরে ফেরার পালা। অসমে ঢোকার প্রায় ১০ দিন পর অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অচেতন (ট্রাঙ্কুলাইজড) করে খাঁচাবন্দি করা হলো পশ্চিমবঙ্গের প্রথম স্থানান্তরিত বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’কে ।

রেডিও কলারের মাধ্যমে তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বন দফতর। বাঘিনী লোকালয়ের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) অনুমতি পাওয়ার পর দুই রাজ্যের বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় বিশেষ উদ্ধার অভিযান। অবশেষে খাঁচাবন্দি বক্সার বাঘিনী। অসম থেকে বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের উপস্থিতিতে গাড়িতে তোলা হল তাঁকে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে পথ ভুলে অসমের দিকে চলে গিয়েছিল বাঘিনী। সেই বাঘিনীকে ফেরাতে অসম ছুটে যান বনমন্ত্রী। অবশেষে মঙ্গলবার এল সাফল্য।

জাল, তিনটি হাতি, মাটির কাটার ভারী যন্ত্র (আর্থ-মুভার) এবং ট্রাঙ্কুলাইজার গানসহ বন বিভাগের এক বিশাল যৌথ অভিযানে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বনকর্মীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামের কোকরাঝাড় জেলার ধোটমা এলাকার গিলাগুড়ি থেকে বাঘিনীটিকে সফলভাবে পাকড়াও করা হয়।

অসমে থেকে ফোনে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, “অবশেষে আমরা ‘ডুয়ার্স রানি’কে ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করতে পেরেছি। আমরা তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফিরিয়ে আনছি। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে তিনটি হাতি ও আর্থ-মুভার আনা হয়েছিল। পুরো এলাকা জালে ঘেরাও করা হয়েছিল এবং নানা চেষ্টার পর আমরা তাকে অচেতন করতে সক্ষম হই।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “এর আগের দিন আমরা এলাকাটি জালে ঘিরে ফেললেও অন্ধকার নেমে আসায় তাকে ধরা সম্ভব হয়নি, সে আমাদের দলটির চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে আজ আমরা হাতি ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে তল্লাশি চালাই। দুপুরের দিকে বাঘিনীটির নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথমে তাকে দেখা যায়নি। বেশ কিছুক্ষণ লুকোচুরি খেলার পর আমরা তার সন্ধান পাই এবং ট্রাঙ্কুলাইজ করি। বাঘিনীটিকে আমরা এখন বাড়ি ফিরিয়ে আনছি। পুরো অপারেশন চলাকালীন আমি নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”

বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা টি-১৩৮ বা ‘ডুয়ার্স রানি’কে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ৭৬০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল রাজ্যের প্রথম বাঘ স্থানান্তর কর্মসূচি। বাঘিনীর সঙ্গে লুকোচুরি খেলা শেষ! অসমের জঙ্গল থেকে ‘ঘরে’ ফিরছে ডুয়ার্স রানি। ১০ দিনের টানটান উত্তেজনার অবসান! অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গল থেকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করা হল বাংলার প্রথম স্থানান্তরিত বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’ T-138-কে। এবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ঘরে ফেরার পালা।

বিহার থেকে বাঘ স্থানান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছিল বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’কে, সেটি পরবর্তী সময়ে অসমের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সেখানে তাকে ট্রাঙ্কুলাইজ (অচেতন) করে খাঁচাবন্দি করা হয়। অসমে ঢোকার প্রায় ১০ দিন পর অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অচেতন (ট্রাঙ্কুলাইজড) করে খাঁচাবন্দি করা হলো পশ্চিমবঙ্গের প্রথম স্থানান্তরিত বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানি’কে (T-138)।

জাল, তিনটি হাতি, মাটির কাটার ভারী যন্ত্র (আর্থ-মুভার) এবং ট্রাঙ্কুলাইজার গানসহ বন বিভাগের এক বিশাল যৌথ অভিযানে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বনকর্মীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামের কোকরাঝাড় জেলার ধোটমা এলাকার গিলাগুড়ি থেকে বাঘিনীটিকে সফলভাবে পাকড়াও করা হয়।

তবে গত ২৪ অক্টোবর মাত্র তিন বছর বয়সি এই বাঘিনী বক্সা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসামের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যায়। প্রথমে তাকে আসামের হাতিগড় গ্রামের কাছে দেখা যায়, যেখানে সে তিনটি পোষা শূকর ও চারটি ছানা মেরে ফেলে। এরপর সে গোসাইগাঁও মহকুমার নারায়ণপুর গ্রাম এবং সেখান থেকে কোকরাঝাড়ের ধোটমা শহরের কাছে বারসিঝোরা গ্রামে পৌঁছায়। সোমবারই ওই এলাকাটি ঘিরে ফেলেছিল বন বিভাগ। অবশেষে মঙ্গলবার কোকরাঝাড়ের ধোটমার গিলাগুড়ি থেকেই তাকে পাকড়াও করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ওড়িশার সিমলিপাল থেকে আসা ‘জিনাত’ নামের আরেকটি বাঘিনী ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ এবং ঝাড়খণ্ড পেরিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে তাকে বাঁকুড়ায় ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করা হয়েছিল।


পরিবেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ঐতিহাসিক দিক থেকে উত্তরবঙ্গের বক্সা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঘের আবাসস্থল হলেও পরিবেশের অবক্ষয়, জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং শিকারযোগ্য প্রাণীর (prey base) ঘাটতির কারণে সেখানে স্থায়ী বাঘের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল। এই বাঘিনীটির মুক্তি বক্সায় বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে খাঁচাবন্দি করার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভোরে একটি সামরিক বিমানে করে টি-১৩৮ কে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজভাতখাওয়া জঙ্গল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২.২ হেক্টরের একটি নরম ঘেরাটোপ (soft enclosure) থেকে বাঘিনীটিকে জঙ্গলে উন্মুক্ত করেন। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ সে সময় জানিয়েছিলেন, প্রথমে একটি বাঘ ও দুটি বাঘিনী নিয়ে একটি ‘টাইগার ইউনিট’ গড়ে তোলাই ছিল তাদের পরিকল্পনা। বাঘের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বনের ভেতরে শিকারের জোগান বাড়াতে বন বিভাগ ইতিমধ্যে ভুটিয়া বস্তি এবং গাংটিয়া বস্তির মতো মূল গ্রামগুলো থেকে ২৪২টি পরিবারকে অন্যত্র পুনর্বাসন দিয়েছে। গ্রিন করিডর তৈরি করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সড়কপথে বাঘিনিকে নিয়ে আসা হয় রাজাভাতখাওয়ার 25 মাইল টাওয়ার এলাকায় । বর্তমানে সেখানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নির্দিষ্ট ওপেন এনক্লোজারে রাখা হয়েছে তাকে ।

জানা গিয়েছে, অসমের কোকরাঝাড়ের দোতমা এলাকার কাছ থেকে গাড়িতে করে বাঘিনিকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয় । নির্দিষ্ট রুট ধরে রাতেই রাজাভাতখাওয়া পেরিয়ে বক্সার এনক্লোজারে পৌঁছয় বনদফতরের বিশেষ দল । দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফের নিজের পুরনো ঠিকানায় ফিরল বাঘিনি । আপাতত এনক্লোজারে রেখে তার শারীরিক অবস্থা, আচরণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন বনদফতরের কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed