পুজোর আগে খাবার নিরাপত্তায় কড়া নজর, গোলপার্কে ১৪টির বেশি দোকানে KMC-র অভিযান
দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে একাধিক খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ ও মিষ্টি তৈরির ইউনিটে অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পুরসভা। খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতায় একাধিক ত্রুটি ধরা পড়লেও নমুনার পরীক্ষাগার রিপোর্ট এখনও আসেনি।

কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দুর্গাপুজোর আগে শহরের খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করল কলকাতা পুরসভা। গত বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকার ১৪টির বেশি খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁয় পরীক্ষা চালান পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানের উৎপাদন ইউনিটও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে পরিচ্ছন্নতা ও খাবার সংরক্ষণ ব্যবস্থায় একাধিক গলদ পাওয়া গেছে বলে পুরসভা সূত্রের দাবি।
পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নির্দিষ্ট কাঁচামাল কেনার রসিদ দেখাতে পারেননি। রেফ্রিজারেটরে রাখা বেশ কিছু খাবারের প্যাকেটে প্রস্তুত বা সংরক্ষণের তারিখও লেখা ছিল না। একটি মিষ্টির দোকানে নিমকির প্যাকেটের মধ্যে পাখির পালক পাওয়া গেছে বলে সূত্রের খবর । নিয়ম না মেনে সংরক্ষণ করা কয়েকটি খাবার ফেলে দেওয়া হয় এবং দোকান কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধর তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
তবে এই পর্যায়ে কোনও নির্দিষ্ট খাবার দূষিত—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পুরসভা। অভিযানে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ইউনিটকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারের নির্দেশে শহরকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে এই অভিযান চলছে। শুধু বড় রাস্তার রেস্তরাঁ নয়, অলিগলির ছোট-বড় খাবারের দোকানও পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
এর আগে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারের অভিযানে শহরের ৫৯২টি খাবারের প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সময় ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি পূরণ না করা ১,২২৪ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়। পুজোর আগে খাবারের চাহিদা বাড়ার সময় পুরসভার ধারাবাহিক নজরদারি শহরবাসীর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।