পুজোয় ভিড় সামলাতে কলকাতায় পৃথক হাঁটার পথ, বদলাবে যান চলাচল
দুর্গাপুজোয় সেজে ওঠে কলকাতা। রাতে পথে বেরোনো মানেই আলাদা অনুভূতি। কিন্তু গাড়ি যদি লালবাতিতে আটকে যায়, বা আচমকাই অটো নির্দিষ্ট রুটে চলাচল বন্ধ করে দেয়, তখন সেই আনন্দই কিছুটা মাটি হতে বাধ্য। আসলে দুর্গাপুজোয় লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঠাকুর দেখতে বেরোবেন। তাই মহালয়া থেকে বিসর্জনের দিনগুলি পর্যন্ত শহরের যান চলাচল সচল রাখতে রাস্তা বন্ধ, গাড়ি ঘোরানো এবং একমুখী যান চলাচল নিয়ে প্ল্যান বানিয়ে ফেলল কলকাতা পুলিশ। উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে যান বা দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজোর মণ্ডপে, বেরোনোর আগে জেনে নিন কোন রাস্তায় কী বিধিনিষেধ থাকছে। পুজোর দিনগুলিতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ ও পরিবহণকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় একাধিক মণ্ডপের যাতায়াতের পথ আলাদা করার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ।

দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুলিশ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পুজোর দিনগুলিতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে শিয়ালদহ, রাসবিহারী এবং বড় মণ্ডপগুলির আশপাশে সর্বাধিক জনসমাগমের আশঙ্কা রয়েছে। একই এলাকার দুটি জনপ্রিয় মণ্ডপের দর্শনার্থীদের ভিড় যাতে এক জায়গায় মিশে না যায়, তার জন্য কয়েকটি স্থানে পৃথক হাঁটার পথ তৈরি করা হবে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দর্শনার্থীদের কলেজ স্কোয়ারের ভিড় থেকে এবং চেতলা অগ্রণীর দর্শনার্থীদের দেশপ্রিয় পার্কের ভিড় থেকে আলাদা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে কলকাতা পুলিশের।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে প্রবেশ ও বেরোনোর প্রধান ব্যবস্থা থাকবে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে। ভিড় বেড়ে গেলে জগত সিনেমার কাছাকাছি অতিরিক্ত একটি পথ খোলা হতে পারে। শিয়ালদহে রেলস্টেশন ও মেট্রো স্টেশনের মধ্যে চলাচলের জন্য পথচারীদের সাবওয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাসবিহারী মোড়ে দর্শনার্থীদের চাপ অনুযায়ী কয়েক মিনিটের জন্য যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট মেট্রো গেটকে পৃথকভাবে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড ও দুর্গাপুর ব্রিজের দিকে যাওয়া কিছু বাসকে প্রয়োজনে হাজরা ও আলিপুর রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে ।

এদিকে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে থিম-প্যান্ডেলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার বহু মণ্ডপে ঐতিহ্য, লোকশিল্প, পরিবেশ এবং সামাজিক ভাবনাকে তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয়া অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর থেকে নবমী, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলের নিয়মে প্রতিদিন পরিবর্তন করা হবে। মণ্ডপমুখী মানুষের ভিড় সামলাতে এই সময়ে পথচারীদের দেওয়া হবে অগ্রাধিকার। দর্শনার্থীদের সর্বশেষ ট্রাফিক নির্দেশিকা দেখে বেরোনো, পুলিশের নির্ধারিত প্রবেশ–প্রস্থান পথ ব্যবহার করা এবং ভিড়ের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন নিজেদেরও ।