পুজোর ভিড় সামলাতে কলকাতায় আরও ২৮টি বায়ো-টয়লেট
দুর্গাপূজার দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং শহরের স্যানিটেশন বা শৌচাগার ব্যবস্থা উন্নত করতে কলকাতা পুরসভা (KMC) আরও ২৮টি নতুন বায়ো-টয়লেট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা পুরসভা আরও ২৮টি বায়ো-টয়লেট সংগ্রহ করেছে। নতুন ইউনিটগুলি যুক্ত হলে পুজোয় পুরসভার হাতে মোট ৫৩টি বায়ো-টয়লেট থাকবে।

পুরসভার পুজো প্রস্তুতিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত বায়ো টয়লেট শহরে পুজোর মরশুমে দেওয়া সম্ভব নয়। পুজোর মরশুমে কলকাতায় বাইরে থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন। ফলে দর্শনার্থীদের কাছে খুবই জরুরি হয়ে ওঠে শৌচালয়।

দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য শহরের জনবহুল পুজোমণ্ডপগুলির বাইরে অতিরিক্ত বায়ো-টয়লেট বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুরসভা নতুন করে ২৮টি বায়ো-টয়লেট সংগ্রহ করেছে। এগুলি মূলত সেই সব মণ্ডপের কাছে বসানো হবে, যেখানে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন ইউনিটগুলি কেনা হয়েছে। পুরসভার কাছে আগে ২৫টি বায়ো-টয়লেট ছিল। নতুন ২৮টি যুক্ত হলে চলতি পুজোয় মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৩। প্যান্ডেল দর্শন আগে থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চতুর্থীর মধ্যে নির্বাচিত পুজো কমিটিগুলির কাছে ইউনিটগুলি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কলকাতা পুরসভার।

গত বছর চেতলা অগ্রণী ও সুরুচি সংঘের মতো বেশি দর্শকসমাগম হওয়া পুজোগুলির কাছে বায়ো-টয়লেট দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরও বড় এবং অধিক জনসমাগমের মণ্ডপগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে কোন কোন পুজোয় নতুন ইউনিট বসানো হবে, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা এখনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

বায়ো-টয়লেটে বিশেষ ডাইজেস্টার ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া মানুষের বর্জ্য ভেঙে অপেক্ষাকৃত সরল পদার্থে পরিণত করে। সাধারণ অস্থায়ী শৌচাগারের তুলনায় এই ব্যবস্থায় বর্জ্য পরিচালনা সহজ হলেও নিয়মিত জল সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরসভার সরকারি বাজেট নথিতেও পুজো, ঈদ, ছটপুজো, কার্নিভ্যাল ও বর্ষবরণের মতো বড় জমায়েতে দর্শনার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী শৌচাগার ও বায়ো-টয়লেট দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই টয়লেটগুলিতে একটি বিশেষ বায়ো-ডাইজেস্টার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এখানে মানব বর্জ্য সরাসরি মাটির নিচে থাকা ডাইজেস্টার ট্যাঙ্কে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা অ্যারোবিক/অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়ার (অণুজীব) মাধ্যমে তা ভেঙে সহজতর উপাদানে পরিণত হয়।

পুরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, পুরনো ইউনিটগুলির কয়েকটির মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে। অতীতে অতিরিক্ত ব্যবহারের সময়ে জল শেষ হয়ে যাওয়া, পরিষ্কারে বিলম্ব এবং উপচে পড়ার অভিযোগও উঠেছিল। ফলে শুধু ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি নয় পুজোর প্রতিদিন যথাসময়ে পরিষ্কার করা, জল ভরা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপরেই এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে এই মোবাইল এবং অস্থায়ী টয়লেটগুলি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎসবের দিনগুলিতে শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা যায়।উৎসবের দিন গুলিতে দর্শনার্থীরা আনন্দের সাথে পুজ মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শন করতে পারে ।