আটক করে সময় নষ্ট নয়! গ্রেফতারির প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ম স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করাতে হবে
আটক করে আর আটকে রাখতে পারবে না পুলিশ, স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু গ্রেফতারির নয়, কাউকে আটকের পরেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করাতে হবে, নইলে সেই আটক ব্যক্তি পাবে মুক্তি নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আটকের পর থেকে আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার দেখানোর আগের সময়ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণনা করতে হবে। একমাত্র আদালতে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় যাত্রার সময়ই এই হিসাবের বাইরে থাকবে।

পুলিশ কাউকে আটক করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু গ্রেফতারের আনুষ্ঠানিক নথি তৈরি হতে দেরি হলে কি সেই সময়টুকু পুলিশের হিসাবের বাইরে থাকবে? বৃহস্পতিবার এই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কাউকে বাস্তবে আটক করার মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার সময় গণনা শুরু হবে। পরে সরকারি নথিতে গ্রেফতারের সময় দেখানো হলেও হিসাবের ক্ষেত্রে তার কোনও প্রভাব পড়বে না।

কাউকে আটক করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর পর থেকে নয়, বরং যে মুহূর্তে কোনও ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে, সেই সময় থেকেই শুরু হবে ২৪ ঘণ্টার হিসাব। অর্থাৎ, কাউকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে পরে গ্রেফতার দেখিয়ে নতুন করে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু করার সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

দেশে ফৌজদারি আইনে নিয়ম হলো, গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউকে আদালতে হাজির করাতে হবে পুলিশকে। কিন্তু আটকের ক্ষেত্রে এ রকম নিয়ম কার্যকর ছিল না এত দিন। এ নিয়ে এ বার কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শুধু গ্রেপ্তারি নয়, কাউকে আটকের পরেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে হাজির করাতে হবে। তা না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে। শীর্ষ আদালত বলেছে, যে মুহূর্তে কোনও ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে, সেই মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টা সময়সীমার হিসেব করা হবে। প্রসঙ্গত, এত দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতারির সময় থেকে ২৪ ঘণ্টার হিসেব হতো। পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে আটকের অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন সময়ে। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আইনমহল।


ত্রিপুরা হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এনডিপিএস (NDPS) আইনের একটি মামলায় চার ব্যক্তিকে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় তল্লাশির সময়ে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় পরের দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায়।

সংবিধান অনুযায়ী দেশে ফৌজদারি আইনে, গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউকে আদালতে হাজির করাতে হবে পুলিশকে। কিন্তু আটকের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও রকম নিয়ম কার্যকর ছিল না। এ নিয়ে এ বার কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শুধু গ্রেফতারি নয়, কাউকে আটকের পরেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে হাজির করাতে হবে। তা না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইঞা এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ৫৬ ধারা অনুসারে, আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারির জন্য অপেক্ষা না করে আটকের মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু করতে হবে। আদালতের মতে, পুলিশি অনুসন্ধান বা তদন্তের সময়কে ২২(২) অনুচ্ছেদের আওতার বাইরে রাখা সংবিধানের পরিপন্থী।

ত্রিপুরা হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এনডিপিএস (NDPS) আইনের একটি মামলায় চার ব্যক্তিকে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় তল্লাশির সময়ে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় পরের দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায়।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকেই ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিচারিক নজরদারি ছাড়াই তাঁদের প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটক রাখাকে সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করে আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, গ্রেফাতির ও আটকের সময়সীমার মধ্যে কোনও কৃত্রিম ফারাক দেখানো যাবে না।

ওড়িশা হাইকোর্ট, কেরল হাইকোর্ট এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টের পূর্ববর্তী কিছু রায়কে খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যে মামলাগুলিতে প্রি-অরেস্ট ডিটেনশন বা আটকের সময়কালকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কেরলের ‘বিশাজিত মণ্ডল’ মামলার রায়কে সঠিক বলে অনুমোদন দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

পাশাপাশি এদিন সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতকেও নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে কোনও অভিযুক্তকে রিমান্ডে পাঠানোর সময়ে আটকের প্রকৃত তারিখ এবং সময় খাতায়কলমে লিখে রাখতে হবে। এর পরে খতিয়ে দেখতে হবে যে, আটকের সময় থেকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা ঠিক মতো মানা হয়েছে কি না। যদি না হয়, অর্থাৎ অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক করে রাখা হয়, তাহলে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।