কলকাতার শতবর্ষী চায়ের দোকানে হেরিটেজ সাজ
রাজ্যের শতবর্ষব্যাপী চায়ের দোকানগুলি নতুন ভাবে গড়ে তুলতে চায় টি-বোর্ড। তারা ওই সব চায়ের দোকানের সৌন্দর্যায়ন করবে। কলকাতার শতবর্ষী চায়ের দোকানে হেরিটেজ সাজ, উদ্যোগ টি বোর্ডের । কলকাতা ও আশপাশের কয়েকটি শতবর্ষী চায়ের দোকানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে অন্দরসজ্জা ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা করেছে টি বোর্ড।

চায়ের সঙ্গে বাঙালির যোগ অনেক পুরনো। অনেক শিল্পীর লেখনিতে ধরা দিয়েছে চা! চা-শিল্প, চা-শ্রমিকদের জীবন, চায়ের স্বাদ— নানা বিষয়ে পাতার পর পাতার ভরিয়েছেন লেখকেরা। মানুষের বিভিন্ন অনুভূতির সঙ্গেও মিলেমিশে রয়েছে চা। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রয়েছে বহু চায়ের দোকান। এমন অনেক দোকান রয়েছে, যাদের বয়স ১০০ পেরিয়েছে। সেই সব চা-দোকানের ভোলবদলের সিদ্ধান্ত নিল টি বোর্ড। টি বোর্ডের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এমন পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। কলকাতার চায়ের আড্ডার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কয়েকটি শতবর্ষী দোকান এবার পেতে পারে নতুন হেরিটেজ সাজ। পুরনো চরিত্র ও স্মৃতি বজায় রেখেই দোকানগুলির অন্দরসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে টি বোর্ড।

টি-বোর্ডের পক্ষ থেকে কলকাতার সাতটি চায়ের দোকানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার টি-বোর্ডের চেয়ারম্যান সি মুরুগান বলেন, ‘‘আমরা চাইছি, হেরিটেজ দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন করতে। কোনও দোকান মালিক চাইলে আমরা তা করে দেব।’’ তিনি এ-ও জানান, কলকাতার বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান তাঁদের নজরে রয়েছে। এমন আরও দোকানের খোঁজও চলছে। প্রকাশিত তালিকাগুলিতে ডেকার্স লেনের চিত্তবাবুর দোকান, ভবানীপুরের বলবন্ত সিং ধাবা, ডালহৌসির কোনা দোকান, শ্যামবাজারের ন্যাশনাল ইকনমিক রেস্টুরেন্ট এবং শ্রীরামপুরের নরেশবাবুর টি স্টলের নাম পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চা ও খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলি সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগ্রহী দোকানমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে টি বোর্ড নিজস্ব উদ্যোগে অন্দরসজ্জার কাজ করতে পারে। সংস্কারের সময় পুরনো দোকানের পরিচিত আবহ, স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহ্যবাহী চরিত্র যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশের অন্যান্য পুরনো শহরেও এমন ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকান চিহ্নিত করার জন্য সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শতবর্ষী দোকানগুলির সংরক্ষণের পাশাপাশি কলকাতার চা-সংস্কৃতি পর্যটকদের সামনে আরও সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সংস্কারের সময় দোকানগুলির স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিজস্ব পরিচয় কতটা অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।