ভারত–ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তার বলয় যুবভারতীতে
মেসি-ম্যাচের বিশৃঙ্খলার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের ফুটবল-উন্মাদনায় সরগরম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় ভারত-ব্রাজিল (India vs Brazil) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না বিধাননগর পুলিশ।

আজ, ৩ অক্টোবর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত–ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে প্রায় ২,০০০ পুলিশকর্মী ও ৪০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। দর্শকদের বিকেল ৫টার মধ্যে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজ বিশেষ দিন। শনিবার, ৩ অক্টোবর, বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত ও ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়াম এবং সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রবেশ, প্রস্থান এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। স্টেডিয়াম ও আশপাশে প্রায় ২,০০০ পুলিশকর্মী এবং ৪০০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। দর্শকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে দর্শকদের তিন দফা নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মোবাইলে থাকা ডিজিটাল টিকিট স্ক্যান ও যাচাই করা হবে। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথ, দর্শকাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে নজরদারির জন্য ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিড় এড়াতে দর্শকদের বিকেল ৫টার মধ্যে পৌঁছতে এবং টিকিট দেখানোর জন্য মোবাইল সম্পূর্ণ চার্জ করে রাখতে বলা হয়েছে। খাবারের প্যাকেট ও জলের বোতল স্টেডিয়ামের ভিতরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, সিগারেট, দাহ্য পদার্থ, লেজার লাইট, অস্ত্র, ধারালো বস্তু, অ্যালকোহল এবং মাদকও নিষিদ্ধ। দর্শকাসনের ভিতরে খাবারের কিয়স্ক থাকবে না; বিভিন্ন ব্লকে পানীয় জলের ডিসপেনসার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র রাখা হয়েছে।

পুলিশ দর্শকদের নির্দিষ্ট গেট ও ব্লকের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতা করতে বলেছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে বেরোনোর বদলে ঘোষিত পথ অনুসরণ করলে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ভিড় ও যানজট কমানো সম্ভব হবে।এমন একটা ম্যাচে যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিত কুমার ভারত জানান, দর্শকদের সুবিধার পাশাপাশি যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতেও একাধিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠের আশপাশে বসানো হচ্ছে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক সাইনেজ বোর্ড। থাকছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও। ম্যাচের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকবে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে যুবভারতীতে বেশ কিছু সামগ্রী নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মাদকজাতীয় দ্রব্যের পাশাপাশি লেজার লাইট, ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার, ছাতা এবং জলের বোতলও মাঠে নিয়ে যাওয়া যাবে না। দর্শকদের মাঠে ঢোকার সময় এই বিষয়গুলিতে বিশেষ নজর রাখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের কথায়, শান্তিপূর্ণ ভাবে ম্যাচ আয়োজনই মূল লক্ষ্য। সেই কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার নির্ধারিত যাবতীয় নিয়মবিধি ও নিষেধাজ্ঞা মেনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। গতবারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে দর্শকদের উন্মাদনার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য রাখতেই বাড়তি সতর্ক বিধাননগর পুলিশ। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পা রাখবে ব্রাজিল ফুটবল দল।